নওগাঁয় ফেলে যাওয়া দুটি শিশু উদ্ধার, শিশুদের সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার জন্য প্রদান

মো.আককাস আলী জেলা নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে দুটি পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া কন্যা শিশু দুটিকে সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার জন্য পৃথক দুটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান মিলন, তাঁর সহধর্মিনী জেইন ইফ্ফাত লগ্ন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ধলু রাইগা ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমিনা খাতুন, সমাজ সেবা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আরিফ, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল, জেলা পরিষদ সদস্য রাজিয়া সুলতানা, এস আই এমদাদুল হক, ওবাইদুল হক বাচ্চু প্রমুখ।
কন্যা শিশু দুটির মধ্যে একটির বয়স ১ দিন ও অপরটির বয়স আনুমানিক সাড়ে ৪ মাস।
উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১দিন বয়সী কন্যা শিশুটিকে ড. রুহুল আমিন সরকার, পিতা মো. নাজিম উদ্দীন সরকার ২৫৮/সি, নবাবী মোড়, গোরান, খিলগাঁও, ঢাকা এর নিকট প্রদান করা হয়। তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন সার্ভিস, দিনাজপুরে কর্মরত আছেন। সাড়ে ৪ মাস বয়সী অপর কন্যা শিশুটিকে জেলার বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল গ্রামের মৃত আবু হেনা চৌধুরীর পুত্র মো. শিহাব নোমান চৌধুরী ও মোছা. দিলরুবা নাসরিন ইতি দম্পত্তির নিকট সাময়িক বিপল্প পরিচর্যার হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৬ জুলাই সোমবার সকালে উপজেলার মাতাজিহাটে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ঝোপের মধ্য থেকে এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এক দম্পত্তির হেফাজতে রাখা হয়। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেকেই ভীড় করতে থাকেন।
অপর ঘটনাটি ঘটে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। স্থানীয় সেভেন স্টার হোটেলের রান্নার কাজে সহায়তাকারী পরী বানু জানান, তিনি কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বেতন নেয়ার জন্য হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় একজন মহিলা বাস থেকে ব্যাগ নিয়ে আসার কথা বলে তার কাছে প্রায় সাড়ে ৪ মাস বয়সের একটি কন্যা শিশু দিয়ে দিয়ে চলে যায়। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরেও মহিলাটি ফিরে না আসায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে শিশুটিকে তার হেফাজতে রেখে দেন। পরদিন ২৮ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিশুটিকে সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার জন্য নোমান ও ইতি দম্পত্তির নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান মিলন জানান, উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার (১৫ দিনের) জন্য শিশু দুটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু দুটির প্রকৃত অভিভাবককে পাওয়া গেলে তাদের নিকট প্রদান করা হবে অথবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *