দোহার-নবাবগঞ্জের রাতের আকাশে হাজারো ঘুড়ির মেলায় মন কাড়ছে রঙ্গিন আলোয়

মো. নাজমুল হোসেন :

করোনার ভয়াল ছোবলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকে। অনেকে আবার মৌসুমী কাজেও লিপ্ত হয়েছেন।তবে সব চেয়ে মজার ব্যপার হল ঘরে বসেও যে নানা রকম বিনোদনে লিপ্ত থাকা যায় তা কিন্তু করোনা ভাইরাস ভালো করেই শিখিয়ে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি। অন্যদিকে মাঠে গিয়ে খেলা করারও সুযোগ নেই। তাই এবার অন্য রকম বিনোদনে মেতেছে সবাই। বিশেষ দিনে অবশ্য এই উৎসবটি করা হয়।তবে এবার প্রতিদিনই এই উৎসবে মাতছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, কিশোর, তরুণ, যুবকসহ নানা পেশার মানুষ।

দোহার-নবাবগঞ্জেও এই উৎসবের কোনো কমতি নেই।বিকাল হলেই নানা রকম, নানা রঙ্গের বাহারী ঘুড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে নানা বয়সী লোকজন। দেখলে মনে হয় এটা যেনো সব বয়সী লোকেরই খেলা বা শখ।

শুধু বিকালেই নয়। রাতের আকাশ সব চেয়ে বেশি মন কাড়ছে এই দুই উপজেলা বাসির।আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় নানা রঙ্গের বাতি দিয়ে আকাশটাকে সাজানো হয়েছে। তারার মত মিটিমিটি করে রঙ্গিন বাতি জ্বলছে।

তবে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এই ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে অনেকে আবার মৌসুমী ব্যবসা দিয়ে বসেছেন। কেউ নিজ হাতে তৈরী করে নানা রকম ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ অন্য কোথাও থেকে পাইকারি দরে ঘুড়ি কিনে খুচরায় বিক্রি করছে।

তবে ঘুড়ির সাইজ ও নাম বুঝে ঘুড়ির দাম ঠিক করা হয়। সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক হাজার টাকা মূল্যেও ঘুড়ি বিক্রয় করা হচ্ছে।

খানেপুর গ্রামের মৌসুমি ঘুড়ি ব্যবসায়ী আলম হোসেন বিল্লাল নববাংলাকে বলেন, অনেক বছর পর ঘুড়ি বানালাম। প্রথমে নিজে উড়ানোরই জন্যই ঘুড়ি বানিয়েছিলাম। কিন্তু পরে লোকজনের চাহিদা ও আবদার থাকায় ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছি। তিনি আরও বলেন, আমি খানেপুর বাজারে একটা চায়ের দোকান করি। কিন্তু লকডাউনে চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় মূলত ঘুড়ি বিক্রি করেই সংসার চালিয়েছি।

বিকালে এবং সন্ধ্যার পর থেকেই ঘুড়ি নিয়ে মেতে ওঠে দুই উপজেলার স্থানীয় তরুণরা। ঘুড়ি ওড়াতে আসা রাসেল, নয়ন ও সবুজের সাথে।তারা জানান সংকটময় এ সময়ে দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকায় সামান্য বিনোদনের জন্য ঘুড়ি উড়াই। তারা আরও জানান, মোবাইল ফোনের পরিত্যাক্ত ব্যাটারির সঙ্গে বিভিন্ন রঙের মরিচ বাতি, বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ এই ঘুড়ি। মোবাইল ফোনের ব্যাটারি হওয়ায় বাতিগুলো দীর্ঘক্ষণ জ্বলে তাই রাতের আঁধারে ঘুড়ি ওড়াতে এবং নিচে নামাতে কোনো সমস্যা হয় না।

খানেপুর গ্রামের সাংবাদিক রাশিম মোল্লা নববাংলাকে জানান, অফিস ছুটি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে আছি। রাত হলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে।রাতের আকাশে শত শত ঘুড়িতে জ্বলে থাকা মরিচ বাতির রঙ্গিন আলো সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করে।

সাবেক ছাত্রনেতা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান দেওয়ান আওলাদ হোসেন জানান, সারাজীবন তো রাজিনীতি করেই কাটালাম। এবার পরিবারের সাথে সময় দেওয়ার একটু সুযোগ পেয়েছি।তাই বিকাল হলেই সন্তানদের সাথে নিয়ে ঘুড়ি উড়াতে বেড়িয়ে পরি। সত্যি এই ঘুড়ি উড়াতে আসলে ছোট বেলার কথা খুব বেশি মনে পড়ে।

সরজমিনে, দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা গেছে প্রতিটি গ্রামের বিশেষ বিশেষ স্থানে এই ঘুড়ি বেশি উড়ানো হচ্ছে। মোট কথা ঘুড়ি উড়ানো এবং নামানোর জন্য খোলা মাঠ বেছে নেওয়া হচ্ছে। মূলত সাধারণ ঘুড়ি, চিল ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি, প্লেন ঘুড়ি, জেড় ঘুড়ি, ঝাপ ঘুড়ি, এবং বেনা ঘুড়ি সবচেয়ে বেশি মন কারছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *