দোহারে সরকারি খাল দখল করে ভবন

কাজী জোবায়ের আহমেদ: ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় খাল দখল করে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। দোহার পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ই জুন দোহার খাল দখল করে নির্মাণাধীন ওই বাড়িটি ভেঙে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পূনরায় কলেজের পার্শ্ববর্তী খালের একপাড় অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ করেন স্থানীয় শাহিন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধ নববাংলাকে বলেন, আমরা ছোট সময় থেকে এই খালটিতে পানি প্রবাহ দেখেছি। আজ দেখেন অনেকেই ক্ষমতার দাপটে সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রশাসন নিষেধ করার পরেও অধিকাংশ খাল দখল করেছে তারা। যদি প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এরা আরও ক্ষমতার দাপট দেখাতে থাকবে।
এদিকে বাড়ির নেমপ্লেটে করদাতা হিসেবে উত্তর জয়পাড়া চৌধুরীপাড়ার জনি শিকদারের নাম থাকলেও জনি শিকদারের দাবি ভবনটি তিনি নির্মাণ করেনি। ভবনটি নির্মাণ করেছেন শাহিন শিকদার ।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালের জুন মাসে ভবনটি ভেঙে দিয়েছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে কিছুদিন পর আবারো ভবনটি সংস্কার করেন শাহিন শিকদার। এরপর আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দখলকারী শাহীন বলেন, “বাড়িটি মালিক জনি শিকদার, আমরা থাকি। তবে ভবন নিজস্ব জমিতে করা হয়েছে। সরকারি খাল দখল করার কথা প্রথমে অস্বিকার করলেও কিছুক্ষন পর বলেন কিছুটা দখল হতে পারে।
এ ব্যাপারে জনি শিকদার বলেন, “সরকারি জায়গায় ভবনটি শাহিন শিকদার কিভাবে নির্মাণ করেছে তা আমার জানা নেই। আমি সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঐ ভবনটি আমার নয়।” ভবনের নেমপ্লেটে তার নাম দেয়ার কারণ জানতে চাইলে জনি শিকদার বলেন, “ওরা কেন নাম দিয়েছে ওরাই বলতে পারবে। তবে সেখানে একসময় আমাদের জমি ছিল যা বর্তমান খাস হয়ে গেছে। সেই জন্যও নাম দিতে পারে। কিন্তু ভবনটি আমি নির্মাণ করিনি।”
দোহার পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, “ভবনটি সরকারি খালের উপর করা হয়েছিল। যার কারনে এর আগে আমরা ভেঙে দিয়েছিলাম। খাস জমির উপর ভবন নির্মাণের সাথে হোল্ডিং ট্যাক্সের কোন সম্পর্ক নেই।”
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র নববাংলাকে বলেন, এবিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো দখলকৃত জমির কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কায়েকদিনের মধ্যে এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *