মো. কামাল হোসেন :
ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে চলছে জোড়পূর্বক কিস্তি আদায়। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানু্ষদের উপার্জন কমে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি আদায়ে বাধ্য করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোহারের মাহমুদপুরের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে কিস্তি আদায়ে বাধ্য করছেন কর্মকর্তারা।
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামে প্রতিষ্ঠানটি রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নারানপুরের একটি কেন্দ্রের সদস্য লিপি আক্তারকে কিস্তি আদায়ে বাধ্য করা হচ্ছে বলে নববাংলার কাছে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়,” রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) প্রতিষ্ঠানের মাসুদ নামের এক কর্মকর্তা লিপিকে দুই দিনের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করতে বলছেন। তিনি তাকে আরও বলছেন পুরোটা না পারলেও অর্ধেক দিতে হবে।
সদস্য লিপি আক্তার নববাংলা কে জানান ” আমার স্বামী এ মাসে টাকা রোজাগার করতে পারে নাই। কিস্তির টাকা পাব কোথায়? আমি কিস্তির স্যারকে অনুরোধ করলাম তারপরও স্যার আমাকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। এখন টাকা আমি দিতে পারবো না। “
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন জোড়পূর্বক কিস্তি আদায় করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ নামের ঐ কর্মকর্তা নববাংলাকে জানান,” আমি তো কিস্তি আদায়ে বাধ্য করছি না। লিপিকে আর কিছুদিন আগে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে বলছি।
তিনি আরও বলেন, “কিস্তির টাকা আমরা না উত্তোলন করে দিলে আমাদের জবাবদিহি করতে হয় অফিসে। বলেন আমরা কি করবো?,
“এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর জয়পাড়া শাখার ম্যানেজার সাঈফুল ইসলামের সাথে।
তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে নববাংলা কে জানান, আমরা আগে থেকেই সদস্যদের টাকা জোগাড় করতে বলি। তাছাড়াও আমরা কোনো সময়ই কিস্তি আদায় করতে খুব বেশি বাধ্য করি না। তিনি আরও বলেন আপনাকে ভুল তথ্য’ দিয়েছেন সদস্যরা।
কিস্তি আদায়ে বাধ্য করা প্রসঙ্গে কথা হয় মাহমুদপুর পুলিশফাড়ির অফিসার ইনচার্জ শাহ আলমের সাথে।তিনি নববাংলাকে জানান,”সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষণা করছেন সরকার। তারপরও কোনো কর্মকর্তা যদি কিস্তি আদায়ে বাধ্য করে আমরা সদস্যদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।”
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোতি বিকাশ চন্দ্র নববাংলাকে বলেন, জোরপূর্বক কিস্তি আদায়ের অভিযোগ পাইনি। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি বিধি নিষেধ মেনে এনজিওগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি-না সে বিষয়ে খোঁজখবর নেব। গ্রাহকরা যদি কিস্তি আদায়ের অভিযোগ করেন তাহলে অভিযুক্ত এনজিও সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
