কাজী জোবায়ের আহমেদ: ঢাকার দোহার উপজেলায় গত ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত ২০১৯ সালে ঢাকার দোহার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ৫৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে বিদ্যালয় খেলা বাস্তবায়নে প্রতিনিধি স্কুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জন্য খেলায় খরচ বাবদ মোট ৪৫ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ পায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ঐ সময়ে দায়িত্বে থাকা শিক্ষা কর্মকর্তা হিন্দোল বারি বরাদ্দের টাকা বিতরণের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফুল ইসলামকে নির্দেশনা দিয়ে গেলেও এক বছরেও বিদ্যালয়গুলোতে টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে নিজের একাউন্টে জমা রাখেন তিনি।
এদিকে এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকরা।
নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ধোয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য বরাদ্দকৃত কোন টাকা দেয়নি সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা।
সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘাটা-১,১৬ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম জানান, খেলাটি পরিচালনা করতে স্কুলের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দের অল্প কিছু টাকাও তাদের প্রদান করা হয়নি।
নারিশা ইউনিয়নের, নারিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাহিদা সুলতানা শিলা বলেন, আমি মাতৃত্বজনিত কারনে প্রায় একবছর ছুটিতে ছিলাম। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের টাকা আমরা এখনো পাইনি। আর এই টাকাটা কোথায় আছে আমরা জানিনা।
এছাড়া এই ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা বলেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা যদি সরকারি লোকেই আত্মসাৎ করেন তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই নেই। সরকারের উচিৎ এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দীর্ঘ এক বছর পর বরাদ্দের টাকা থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখে মারুফুল ইসলাম তার নিজের একাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কার্তিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়ার কাছে,বাকি টাকা আর কিছুদিন পরে বিকাশে দেয়ার কথা জানান মারুফুল ইসলাম।
এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম মিয়া নববাংলাকে বলেন, গত মাসে তাকে হঠাৎ ২৫ হাজার টাকার চেক দিয়ে নিজের কাছে রাখতে বলেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফুল ইসলাম। পরে চেক জমা দিয়ে নির্ধারিত ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা উত্তলন করেন বলে জানান আবুল কাশেম মিয়া। এককভাবে চেক গ্রহণ করা যাবে কিনা এবিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে চেক দিয়েছে তাই নিয়েছি,এটি আমার কাছে আমানত রয়েছে বাকি টাকা পেলে বন্টন করা হবে।
অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফুল ইসলাম বলেন, হিন্দোল বারি স্যার বদলি হওয়ার আগে বরাদ্দের টাকা আমাকে বন্টন করে দিতে বলেছে। টাকাটা আর দেয়া হয়নি। সরকারি টাকা বন্টন না করে ব্যক্তিগত একাউন্টে রাখার কোন নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে ফোট কেটে দেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভিন সুলতানা বলেন, এই টাকা বন্টন করে দেয়ার কথা। এতদিনেও কেন দেয়া হয়নি এটি আমি অবগত না। তবে ২৫ হাজার টাকা এক শিক্ষককে দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে বিভাগীয় উপপরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূইয়া নববাংলাকে জানান, কারো ব্যক্তিগত একাউন্টে সরকারি বরাদ্দের টাকা জমা রাখার কোন নিয়ম নেই। এছাড়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য বরাদ্দের টাকা এতদিনে কেন দেয়া হয়নি এটি খতিয়ে দেখতে হবে। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
