মো.কামাল হোসেন : দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে টিসিবির পন্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। টিসিবি অনেক কার্ডধারীরা মাসের পর মাস পরিষদে ঘুরে ও পাচ্ছে না তাদের কাঙ্খিত টিসিবির পন্য। কোথায় যায় কার্ডধারীদের এসব পন্য? এ প্রশ্ন ই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে৷ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুকুর হাওলাদার জানান, পরিষদে টিসিবির মাল নিতে আসছি, মাল দিলো না, তারা বলে মাল নাই। আমার মালটা কোথায় গেলো? আমি আমার মাল চাই। ” মাহমুদপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, ” টিসিবির মাল নিতে আইছিলাম দিলো না উনারা। কই মাল নাই। আমার কার্ড আছে তাইলে আমার মাল গেলো কই? ” মাহমুদপুর ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, টিসিবির মাল নিতে আইছিলাম পাইলাম না দুইদিন ধইরা ঘুরতাছি আহি কই মাল নাই ক্যা। ” .টিসিবির পন্য বিতরণ নয় ছয়ের অভিযোগ তুলে মাহমুদপুর ইউপি সদস্য ফরিদ হাসান জানান,” কার্ড পাওয়া অনেক লোকজন ই টিসিবির পণ্য নিয়মিত পাচ্ছে না।
ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ফরিদ হাসান বলেন টিসিবির পণ্যের কার্ডের তালিকা অনুযায়ী মাল আসে। কিন্ত কার্ডধারী অনেকে মালের জন্য গেলে ডিলার মাল নাই বলে জানিয়ে দেয়। ডিলার এ মালগুলো বিক্রি করে নাকি কি করে আমরা জানি না ” ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মো.জহির বলেন, আমার ওয়ার্ডে কার্ডওয়ালা অনেক লোক ই টিসিবির পণ্য পায় নি । কার্ড নিয়ে আসলে জনগণকে মাল নাই বলে ফেরত পাঠিয়ে দেন। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ! মাল না পাইলে জনগণের কাছে আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। জনগণ আমাদের উপর রাগ করেন। ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড সদস্য হেলেনা বেগম জানান, প্রত্যেক মাসেই ডিলার মাল নাই বলে অনক কার্ডধারী লোককেই মাল দেয় না। আগামী মাসে মাল দিব বললেও আগামী মাস আসলে বলে পরের মাসে সমন্বয় করে দিব এভাবেই কাটছে মাসের পর মাস। ডিলার মাল কি করে? এটার তদন্ত চাই আমরা।
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মো.উজ্জল জানান, তালিকা অনুযায়ী অনকেই টিসিবির মাল পায় না। তিনি ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন কোন মাসে মাল যদি কম আসে আমাদের আগে জানায়লে আমরা জনগনকে জানিয়ে দিতে পারি। জনগন পরিষদে এসে বার বার হয়রানি হবে না।
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার , ফালু জানান, টিসিবি পন্যের গোডাউনের চাবি আমার কাছে থাকে না। মাল কি হয় আমি জানি না। তবে যারা মাল নয় ছয় করে তাদের বিচার চান এ দফাদার।
টিসিবি ডিলারের মাহমুদপুর প্রতিনিধি আবুল কালাম জানান ” আগের মাসে অনেকে পণ্য নিতে আসে নাই এজন্য তাদের কার্ড এক্টি ভ ছিলো না এজন্য এ মাসে মাহমুদপুর ইউনিয়ন ৫৬ টি কার্ড কম দিয়েছে। এজন্য ই মূলত কিছু মাল কম পরছে। এমাসে যে মালগুলো কম পড়ছে পরের মাসে সমন্বয় করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, ” টিসিবির পন্য বিতরন নিয়ন্ত্রণ করেন টিসিবির দায়িত্বশীলরা। যারা পন্য নিতে না আসে তাদের কার্ড এক্টিভ হয় না এ জন্য কিছু মাল কম আসে আবার কার্ড এক্টিভ হলে মাল আসে এজন্য কিছু মাল কম পরছে। পরের মাসে এগুলো দিয়ে দিবে তারা। তিনি আরো বলেন তারপরেও আমি ডিলার কে ডাকবো , কতটা কম পরলো তা জানবো এবং পরের মাসে যেন মাল কম না পরে এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
