কাজী জোবায়ের আহমেদ : দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অবহেলিত ঢাকার দোহার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড। পৌরসভা থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ আসলেও ঐ ওয়ার্ড কমিশনার মো. ফরহাদ বেপারীর কাছ থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ সঠিকভাবে পৌছালেও দোহার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণে কমিশনার ফরহাদ বেপারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন ঐ এলাকার বাসিন্দারা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।
জানা যায়, সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ৭নং ওয়ার্ডের দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের লক্ষ্যে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন।
পরে ৭৫টি পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয় এই ওয়ার্ডে।
অথচ সমন্বয় কমিটিকে অবহিত না করেই বিতরণ করা হয় এই খাদ্যসামগ্রী। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ৭নং ওয়ার্ডের দোহার ঘাটা এালাকার কাইকেই দেয়া হয়নি এই খাদ্যসামগ্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর সেলিম জানান, গত ১৮ বছরে দোহার ঘাটা এলাকায় এপর্যন্ত কোনো রাস্তা মেরামত বা নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়নি। ঐ এলাকার বাসিন্দারা পৌরসভার কোনো সুযোগ সুবিধা পায়নি অথচ অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে যতটুকু বরাদ্দ এসেছে সবই সমান বন্টন হয়েছে, তাহলে এই ওয়ার্ডে কি কিছুই আসেনি? সর্বশেষ দেশের এই করুন পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণ নিয়েও ছেলেখেলা শুরু করেছে কমিশনার ফরহাদ বেপারী।
জায়েদ হোসেন নামে এক বাসিন্দা জানান, আমি রাজমিস্ত্রী কাজ করি এখন এই সময়ে কোনো ত্রাণ না পেলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে। আমরা পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও কোনো ধরনের কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা। যা বরাদ্দ আসে স্বজনপ্রীতিতেই শেষ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক বাসিন্দা জানান, আমার শুনেছি গরীবদের জন্য পৌরসভার কাউন্সিলরের কাছে একটি বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু এই ত্রাণ কখন কিভাবে কাদের মাঝে বন্টন হলো তা কিছুই জানিনা। এই পর্যন্ত ফরহাদ কমিশনারের কাছে এই এলাকার মানুষ কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা পায়নি। এমন কাউন্সিলর থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
৭নং ওয়ার্ডের ত্রাণ বিতরণের সমন্নয় কমিটির সদস্য নিপু খন্দকার জানান, দোহার ঘাটা এলাকার কেউ পৌরসভার ত্রাণ পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। পৌরসভা থেকে ফরহাদ কমিশনার কিভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছেন আমি কিছুই জানিনা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি (কমিশনার) জানান এবারের মত ত্রাণ দেয়া হয়ে গেছে আগামীতে সমন্বয় করা হবে।
কমিটির সদস্য কাজী কফিল উদ্দিন জানান, পৌরসভার ত্রাণের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
কমিটির আরও এক সদস্য মো. উদয় হুসাইন জানান, আমি যতটুক জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ সরকারি ত্রাণগুলো স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে বিতরণ করতে হবে। অথচ ৭নং ওয়ার্ডের সমন্বয় কমিটি হওয়ার পরেও কেনো ৭৫ টি পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে আমরা কিছুই জানিনা।
ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড কমিশনার ফরহাদ বেপারী জানান, কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি এর আগে যে ৭৫ টি পরিবারের জন্য সরকারি ত্রাণ পেয়েছি তা দোহার ঘাটা এক ব্যক্তিকে ১০ টি প্যাকেট দিয়েছি বিতরণের জন্য। বাকি ত্রাণ চান্দের বাজার ও বানাঘাটা এলাকায় দিয়েছি। বিএনপির আমল থেকেই আমি সবাইকে সুবিধা দিয়ে থাকি। দোহার ঘাটা এলাকায় পরিচিত তিন ব্যক্তিকে সবসময় সরকারি সুবিধা দিতেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বরাদ্দ কম থাকায় ৭নং ওয়ার্ডে কোনো উন্নয়ন হয়নি।
দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম মিঞার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন নববাংলাকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বয় কমিটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে বা কোনো অনিয়ম হলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
