কাজী জোবায়ের আহমেদ: ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা এলাকায় ‘আশা ক্লিনিকে’ ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার( ১৮ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃত নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী সামসুন্নাহার জানান, গতকাল শুক্রবার উপজেলার বাস্তা এলাকা থেকে রাতে প্রসবজনিত ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন আশা ক্লিনিকে। এসময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত অপারেশন করার কথা বলেন। আজ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে অপারেশন করেন ডা. বিরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, অপারেশনের কিছুক্ষন পর আমার বাচ্চা মারা যায়। আমার বাচ্চা জীবিত থাকা অবস্থায় কোন প্রকার চিকিৎসা না দিয়েই তারা আমার মৃত বাচ্চাটিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন।
সামসুন্নাহারের মা রেনু বেগম জানান, আমার মেয়ের অপারেশন শেষ হলে, আমরা বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে অপারেশনের আধাঘন্টা পর আমার নাতনীকে আমার কোলে দেয় এক নার্স। এসময় আমার নাতনী কোনো সাড়া শব্দ না দেয়ায় আমি তাদের বলি বাচ্চা নীল হয়ে গেছে কেন , কোনো সাড়াশব্দ নাই ? আমার নাতনী তো মারা গেছে ।
এসময় ক্লিনিকের লোকজন আমাকে বাচ্চা নিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা দিতে বলেন। আমরা পাগলপ্রায় হয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানায় বাচ্চাটি অনেক আগেই মারা গেছে। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারনে এই বাচ্চা মারা গেছে। আমাদের মৃত বাচ্চাকে নিয়ে কেন এত হয়রানি করলো। আমরা গরীব বলে এর বিচার কি পাব না। এদিকে ক্লিনিকের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসা সেবা।
এবিষয়ে আশা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা জানান, বাচ্চাটির বয়স ছিলো মাত্র ৩৫ সপ্তাহ। অক্সিজেন কম পাওয়ায় আমরা দ্রুত অপারেশন করতে বলি। অপারেশনের পর বাচ্চা জীবিত ছিলো কিন্তু অবস্থা খারাপ থাকায় অন্যত্র নিয়ে যেতে বলি।
এসময় ডা. বিরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস ও আশা ক্লিনিকের বৈধ কাগজপত্র চাইলে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা শুধুমাত্র ডাক্তারের বিএমডিসির সার্টিফিকেট ও ২০১৭ সালের ক্লিনিকের নবায়নকৃত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সার্টিফিকেট দেখান ।
তিন বছর ধরে সার্টিফিকেট কেন নবায়ন করেননি জানতে চাইলে শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা গত বছর নবায়ন করতে দিয়েছি। এসময় আবেদনের কপি চাইলে সেটিও দেখাতে পারেননি ।
এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, আমার খুব শীঘ্রই দোহারের ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবো। যদি কোনো ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও লাইসেন্স নবায়ন না থাকে আমরা ঐ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মঈনুল আহসান নববাংলাকে বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া যারা লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
