দোহারের মেঘুলা মাদরাসা-মসজিদের মোহতামিমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকার দোহার উপজেলার মালিকান্দা-মেঘুলায় অবস্থিত’আল-জামি’আতুল ইসলামিয়া ফজলে খোদা  মসজিদ মাদরাসার  বাৎসরিক আয়-ব্যায় নিয়ে কমিটির সদস্যদের অসন্তোষ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মেঘুলা বাজারের সড়কের উপর আল-জামি’আতুল ইসলামিয়া ফজলে খোদা মাদ্রাসা-মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা করেছে উক্ত মাদ্রাসা-মসজিদ কমিটির সদস্য, মুসল্লি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীরা।

এসময় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, মসজিদ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন, নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন খান লেবু, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, মসজিদ কমিটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাবু।এ সময়ে বক্তারা বলেন,আরবি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা ও মসজিদের পরিচালনা পর্যদ কমিটির গুটি কয়েক সদস্য জীবিকা চালায় মানুষের দানের টাকা আত্মসাত করে। মাদ্রাসা-মসজিদের অর্থ আত্মসাত করে যারা  অবৈধ সম্পদশালী তাদের সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সদস্য মো.জয়নাল আবেদীন,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট শরীফ হাসান, সাবেক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ-সম্পাদক মো.আলী ঘটু খালাসী বাজার কমিটির সভাপতি কাজী রুবেল, বাহালুল শিকদার , মৌলভী আবু তালেব দরানী, মাদ্রাসা-মসজিদ কমিটির ইসলামিক চিন্তাবীদ মুফতি নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।


ঊল্লেখ্য এর আগে গত শুক্রবার (২১ মে) সকালে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সদস্যরা ২০১৯ সালের বকেয়া হিসাব বিবরণী প্রকাশ করার জোড়ালো দাবী জানান।পরে ঐদিনই পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কমিটির উপদেষ্টা নির্দেশে উক্ত কমিটি বাতিল করা হয়।রোববার সকালে ঢাকা-১ এর সাংসদ সালমান এফ রহমান ও দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন।

উক্ত মাদ্রাসার মোহতামিম আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি লিখিত অভিযোগ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগে লেখা আছে, মাদ্রাসা-মসজিদের অর্থ সম্পদ লুণ্ঠন করে তিনি আজ অবৈধ সম্পদশালী। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে চুনকুটিয়ায় ১টি প্লট যার বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। চুনকুটিয়ার মদিনা টাওয়ারে ১টি ফ্ল্যাট ও ১টি দোকান এবং বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ড ও ছাদের মালিকানা যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা। চুনকুটিয়ার মক্কা টাওয়ারে দুইটি ফ্ল্যাট যার আনুমানিক আয়তন ১৬ থেকে ১৮’শ স্কয়ার ফিট। আহম্মেদ নগর কেরানীগঞ্জে একটি বিশাল প্লট যার মূল্য ৩০-৪০ লাখ টাকা। তাজমহল সিটি, চিটাগং রোডে একটি প্লট যার মূল্য ৩০ লাখ টাকার উপরে। জয়পাড়া, দোহারে তার দুটি প্লট। মালিকান্দা, দোহারে তার বিশাল দু’তলা দালান বাড়ি ও একটি প্লটসহ কমপক্ষে ১১টি বাড়ি ও প্লটের মালিকসহ অজ্ঞাত সম্পদের মালিক।  এছাড়া মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল টাওয়ার ভাড়া বাবদ তার নামে চেকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন জমা হয়। যা তিনি মাদ্রাসাকে না দিয়ে নিজেই অবৈধভাবে ব্যবহার করতেছেন ।

জানা যায়, দোহারের স্বনামধন্য ইসলামিক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ৫৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।  মাদরাসা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টার ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহবুবুর রহমান।  সভাপতি   আব্দুস সালাম শিকদার,সহ-সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন আল-মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *