জনবল সংকটে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুচিকিৎসা বঞ্চিত হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়ন “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের” প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধরা প্রতিদিন সুচিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন হাজারও মানুষ। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আর জনবল শূন্যতা পূরণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানিয়েছেন, আমি বারবার শিকারীপাড়া ইউনিয়ন “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের” জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে ও ঐ চিকিৎসা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিকারীপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা প্রদান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মানুষের অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে। সপ্তাহে একদিন রোগীর চিকিৎসা দিতে উপজেলা থেকে একজন ডাক্তার আসেন এই কেন্দ্রে। হাগ্রাদী এলাকার আবু তালিব জানান, এলাকার কিছু মাদক সেবীরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় আড্ডা দিতো। এখানে চাহিদার আলোকে চিকিৎসা পাচ্ছে না অসহায় ও দরিদ্র মানুষ।
চিকিৎসা নিতে আসা নারী রহিমা বেগম জানান, আমি গরীব মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে দেখি মহিলা ডাক্তার নেই। মহিলা ডাক্তার না থাকায় আমরা নারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। এই যদি হয় একটি সরকারি হাসপাতালে অবস্থা আমরা গরীবরা কই যাইতাম।
হাত ভেঙে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা শফিক মিয়া জানান, এই হাসপাতালে এক্সরে, রক্তসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত সময় ও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করেছি বাধ্য হয়ে। তাদের ব্যবসাও বেশ জমজমাট। আমরা তো শেষ যেন দেখার কেউ নাই।
পরিবেশ ও সমাজ কর্মী মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন, সুচিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। হাসপাতালটিতে জনবল সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কারণ এভাবে একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অচল অবস্থায় পরে থাকতে পারে না। কোথায় দূর্বলতা রয়েছে তা খোঁজে বের করতে হবে। আর কেন এটি স্থানীয় নেতাদের ও মাদক ব্যবসায়ীদের আন্তানা করা হয়েছিল তার দায়িত্ব প্রশাসনের উপর বর্তাবে। আমরা চেষ্টা করবো এসব কার্যক্রম কিভাবে চালু করা যায় তা করতে।
শিকারীপাড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইন্সপেক্টর (এফপিআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এখনো ৫টি পদে কোন জনবলই নেই। পদগুলো হচ্ছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (এফডাবলিওভি) ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) এবং আয়া।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, ঢাকা জেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য সেবার ক্যাটাগরিতে আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে থাকি। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত জনশক্তির অভাব রয়েছে। সাভার ও ধামরাই উপজেলা সবচেয়ে বেশি এগিয়ে সেবা প্রদানে। তিনি জানান, যেখানে উপজেলায় ১১জন ংধপসড় কর্মরত থাকার কথা সেখানে রয়েছে মাত্র ২জন, ভাি থাকার কথা ১৪জন আছে ৫জন রয়েছে, ফার্মাসিস্ট থাকবে ১১জন আছে মাত্র ১জন, এমএলএসএস ১১জনের পরিবর্তে আছে ৪জন এবং আয়া রয়েছে ২জন। যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ের সেবা প্রদান। যদি সরকার নিয়োগ নিশ্চিত করে তাহলে সমস্যা থাকবে না বলে আশা করেন তিনি। আমাদের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য উপরের কর্মকর্তারা অবহিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *