গরু বিক্রি নিয়ে বিপাকে দোহারের খামারিরা

ইমরান খান রাজ:  চলছে করোনাভাইরাস আর তার সাথেই বন্যা, এর মধ্যেই পালিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের ২য় সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। আগামী আগস্ট মাসের ১ তারিখে বাংলাদেশে পালিত হবে ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর গবাদিপশু কেনা-বেচা নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। মহামারীর কারণে এইবার অনেকেই পশু ক্রয় করতে যাচ্ছেনা হাটে। আর তাই গরু বিক্রি নিয়ে বিপাকে রয়েছে দোহারের খামারি ও গরু পাইকাররা। গত কয়েকদিন যাবৎ দোহারের মুকসুদপুর হাট, মেঘুলা হাট চালু হলেও আশানুরূপ বিক্রি নেই এসব হাটে। গরু নিয়ে সারাদিন বসে থাকতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। আর যারা হাটে যাচ্ছে গরু দেখতে বা কিনতে তারাও প্রত্যাশার চেয়েও কম দাম বলছে ক্রয়ের ক্ষেত্রে৷ ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে দোহারের বিভিন্ন গ্রাম আর এতে করে গবাদিপশুর জন্য কাঁচা ঘাসের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামের শুকনো খাবার কিনে খাওয়াতে হচ্ছে খামারীদের। এতে করে গবাদিপশুর পেছনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের।

উপজেলার চৈতাবাতর গ্রামের গরু খামারি মো. লাল মিয়া জানায়, গত একবছর ধরে সে ২টা গরু লালনপালন করে আসছে কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম আসা ও কম দাম বলায় গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সে। তিনি আরো জানায়, দোহারের অনেক খামারিরা গরু মোটাতাজা করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক বা এনজিও থেকে টাকা ঋণ নিয়ে থাকে৷ গরু বিক্রি করতে না পারলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাটাই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠবে তাদের জন্য।

এবছর করোনাভাইরাসের কারনে ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন গরু কেনা-বেচা চলছে। কিন্তু দোহারে এখন পর্যন্ত এধরনের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। করোনাভাইরাস ও বন্যার ভয়াবহতা অতিক্রম করে কোরবানির পশু ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছে দোহারের কয়েকশো গরু খামারি ও পাইকাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *