কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)উপজেলা সংবাদদাতা :
ঢাকার কেরানীগঞ্জের গদারবাগ এলাকায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৪জনসহ ৬জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো মোঃ সোহাগ(৩০),স্ত্রী মিনা বেগম(২৩),কন্যা তাইয়িবা(২),তাহমিনা(৪) জেসমিন আক্তার(৩৫),মেয়ে ঈসা(১৫)। আর দগ্ধরা হচ্ছে হানিফ(৭০),মেয়ে পারুল ওরফে রোজা(৫), ফাতেমা(৭)ও সাইফ(১০)। দগ্ধদে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জেসমিনের স্বামি মোঃ মিলন সৌদি প্রবাসী।
জানা যায় সোমবার রাত সাড়ে তিনটার সময় কেমিক্যাল গোডাউনে এই আগুন লাগে। এ সময় মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কেমিক্যাল বস্তুর এই আগুনের তাপ এতই প্রখর ছিল যে মানুষ আগুনের তাপে ঘটনাস্থলের কাছে ভিড়তে পারেনি। এ সময় লোকজন গোডাউনের পাশের একটি ভাড়াটিয়া বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে । চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে ৩ জন মারা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে প্রায় তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলের একটি রুমের ভিতর থেকে ৩ জনের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে। সাধিন নামে একজন এলাকাবাসী জানান আমাদের এই এলাকায় কোন রাস্তা না থাকার কারনে ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়ি ঢুকতে না পারায় আগুন নিভাতে দেরি হয়েছে।সকালে খবর পেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেককে ২৫ হাজার ও আহতদের ১৫হাজার টাকা প্রদান করেন। এদিকে এলাকাবাসী আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য গোডাউনের মালিক হাজী টুলটুলকে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তিনি কেমিক্যাল গোডাউনটি অন্যত্র সরিয়ে নেননি। তবে বৈদ্যুতিক শক সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন।
অপরদিকে ঢাকা-২ আসনের এমপি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রি এডভোকেট কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান,আবাসিক এলাকায় কোন কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা থাকতে পারবে না। এব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অর্থলোভীরা এটা মানছে না। আবাসিক এলাকায় এধরনের কোন গোডাউন ও কারখানা যেন না থাকতে পারে সে জন্য উপজেলা প্রশাসনকে যতাযত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দেয়া হবে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিম বলেন, আবাসিক এলাকায় আমরা কোন কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা থাকতে দিব না। আমরা আবাসিক এলাকাগুলোতে এব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করব। কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোঃ সামসুদ্দোয়া বলেন,গদারবাগে কোন রাস্তা না থাকায় তাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌছতে একটু দেরি হয়েছে। তারা দ্রুত ৬টি ইউনিটের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই।
