কলাকোপা ইছামতী নদীতে ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ, ৯ ঘাসী ও ৪ কোষা নৌকার অংশগ্রহণে জমজমাট আয়োজন

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ। ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইছামতী নদীতে ঐতিহ্যের সেই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৯টি ঘাসী নৌকা ও ৪টি কোষা নৌকা অংশগ্রহণ করে। কলাকোপা নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এবং নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির পরিচালনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি খন্দকার আবু আশফাক। তিনি বলেন, নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এই ঐতিহ্য আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আগের মত ইছামতী নদীর সব পয়েন্ট শৃঙ্খলভাবে নৌকা বাইচ আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
নৌকা বাইচকে ঘিরে ইছামতী নদীর তীরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নৌকার ছন্দময় বৈঠার তালে তালে নদীতে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করেন।
একসময় নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নিতেন। নদীর দুই তীরে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে নৌকা বাইচ পরিণত হতো বড় ধরনের লোকজ উৎসবে। তবে বর্তমানে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় স্লুইচগেট না থাকায় নদীতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীতে প্রয়োজনীয় পানি থাকে না।
নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, নৌকা বাইচ বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে নৌকা বাইচ হতো। এখন পানির অভাবে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
তিনি বলেন, ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় দ্রুত স্লুইচগেট স্থাপন করা প্রয়োজন। নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি ইছামতী নদী ও এর আশপাশের জনপদও প্রাণ ফিরে পাবে।
রাশিম মোল্লা বলেন, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্লুইচগেট স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পানির অভাবে নৌকা বাইচ আয়োজনেও ভাটা পড়েছে। তাই ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত স্লুইচগেট স্থাপনের পাশাপাশি ইছামতী নদীর নাব্যতা ও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *