বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. ইব্রাহীম খলিল : বন্দেগী ও জিকিরসহ হলফ করুন, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
দেশ ও জাতির সচেতনতা বৃদ্ধি করে করোনার হাত থেকে মুক্তি ও উত্তোরণের পথ কি?
এমতাবস্থায় যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতার উপর আঘাত আসে তাতে দেশ ও জাতির করণীয় কী?
৭১ এর মার্কিন ব্রিটিশ দেশীয় ঘাতক করোনার সুযোগ নিয়ে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কেন এই মুহুর্তে মার্কিন-ব্রিটিশ বিমান করে বিদেশীদের এই বাংলায় অনুপ্রবেশ কাদের অনুপ্রেরণায়? আইএসআই – সিআই এর দালাল অপশক্তি জঙ্গিমৌলবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিবাজ, দেশের অর্থ-সম্পদ হরিলুটেরা ওরা হিংস্র-বর্বর হায়েনা হয়ে দেশ-জাতি-মাটি ও মানুষের উপর জৈবজীবাণু দিয়ে এদেশের মানুষের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দেয়ার নীল নকশা কিন্তু থেমে নেই।
বিদেশী অনুপ্রবেশ বিমান বন্ধ এখনই দরকার। যার যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের সফল প্রধানমন্ত্রী, স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ অনুসরন করে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।
এ মুহুর্তে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মান, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি প্রবাসীদের রেডক্রীসেন্টের মাধ্যমে যার যার মা-বাবার বুকে ফিরিয়ে আনা যায় কিভাবে? সেদিকে আমাদের করণীয় কি?
এক ক্রান্তিকাল পার করছে মানব সভ্যতা। ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই সবার জানা হয়েছে করোনাকবলিত পৃথিবীর কথা। কাউকেই ছাড়ছে না এ ভাইরাস। শিশু থেকে বৃদ্ধ। দেশ থেকে দেশে। গ্রাম থেকে শহরে।
একটা সময়ে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে শোনা যেত গত শতাব্দীর কথা। যখন মহামারিতে বিলীন হতো পুরো গ্রাম। সেকাল ছিল চিকিৎসাহীনতার পর্ব। কিন্তু নতুন শতকে, অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যুগে এমনটা মেনে নেওয়া কঠিন। করোনা সেই ভাইরাস, যার প্রতিষেধক এখনও উদ্ভাবন করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তাই চিকিৎসা নয়, বরং সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
মনে রাখতে হবে, আমরা একটি দুর্যোগ পার হচ্ছি। তাই সাধারণ সময়ের চেয়ে এ সময় বেশি দরকার সচেতনতা। এখনই সময় সতর্ক হওয়ার। একই সঙ্গে নিজে ও নিজের চারপাশ নিয়ে ভাবার।
বাঙালি আরামপ্রিয় ও অলস জাতি হিসেবে পরিচিত। ৭০ থেকে ৯০-এর দশকজুড়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে ডায়েরিয়া নিয়ে। তখন হাত ধোয়ার বিষয়টি জনসচেতনতার অংশ হয়েছিল। অথচ সামান্য কিছু পরিচ্ছন্নতাবোধ নিজে ও অন্যকে পালন করতে উৎসাহিত করলে আমরা আগের বিপদের মতো এবার নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারব। এর জন্য চাই ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
মূলত করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয় হাত ও মুখ থেকে। তাই ভালো স্যানিটাইজার এ সময় নিত্যসঙ্গী হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা সময়ের কর্তব্য।
আরও কিছু বিষয় এ সময়ে মেনে চলা উচিত। এই দুর্যোগে নিজে আতঙ্কিত হবেন না। একই সঙ্গে অন্যদেরও আতঙ্কিত করা যাবে না। অন্যরা আতঙ্কিত হয়, এ ধরনের কোনো প্রচারণায় অংশ নেবেন না।
করোনায় আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি সবার মেনে চলা উচিত।
জনসমাবেশ হয় এমন জায়গা যেমন বাজার, খাবার দোকান, সুপার শপ, উপাসনালয়, কনসার্ট ইত্যাদি স্থান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ধর্মীয় আচার-আচরণ একেবারেই নিজের বাড়িতে পালন করুন।
প্রবাসীরা যারা দেশে এসেছেন, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করুন। যদি কাউকে হোম কোয়ারেন্টাইনে অর্থাৎ বাসায় একা থাকা, কারও কাছাকাছি না আসা ইত্যাদি থাকতে বলা হয়, তাহলে নিজের ও দেশের স্বার্থে তা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। অন্য কোনো আচরণ করে সবার জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না। তাই সংযত থাকার সময় এখনই।
এখন চলছে দুর্যোগকাল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে করোনার সংক্রমণ এড়ানোর জন্য। তাই একে বেড়ানোর সময় ভাববেন না। অন্তত এ সময়ে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই খুব প্রয়োজন না হলে কোথাও যাবেন না। কারও বাসায় দাওয়াত খেতে যাওয়া অথবা কাউকে নিজের বাসায় দাওয়াত করারও দরকার নেই এ সময়টায়।
শিক্ষার্থীরা, করোনা সতর্কতা কঠোরভাবে মেনে চলুন। ছাত্ররা সমাজের শিক্ষিত অংশ। তারা সচেতন হলে পুরো সমাজেই এর ভালো প্রভাব পড়বে। তারা নিয়ম মানলে অন্যরা মানতে উৎসাহিত হবেন। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। তবে অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে।
আরেকটি বাজে অভ্যাস আমাদের মধ্যে দেখা যায়, তাহলো থুথু ফেলা। বাইরে যেখানে সেখানে থুথু ফেলবেন না। থুথু না ফেললে কিছু হয় না। ঘরে বা বাইরে খোলা মুখে হাঁচি-কাশি দেবেন না। বয়স্ক ব্যক্তিরা এই ভাইরাসের সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। তাই তাদের যত্ন বিশেষভাবে নিতে হবে।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা. চেয়ারম্যান।
মুক্তিযোদ্ধা জনতার সম্প্রীতি বাংলাদেশ।
কেন্দীয় নির্বাহী কমিটি।
