শেখ আলমগীর হোসেন: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্ব থমকে আছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ চরমভাবে ব্যাহত। ভেঙ্গে পরেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়ের সকল খাত। অন্যান্য খাতের ক্ষতি হয়তো বিশ্ব এক সময় পুষিয়ে নিতে পারবে, কিন্তু শিক্ষাখাত? বিশ্বকে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষাকে পেছনে ফেলে যাওয়া অসম্ভব। পুরো বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চলছে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ভিত্তিক ক্লাস কার্যকম। যেখানে বাড়িতে বসেই শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে শিক্ষকের অডিও, ভিডিও, দিক নির্দেশনা। ভাইরাসের বিস্তার রোধ কবে নাগাদ শেষ হবে কেউ জানে না। কারোরই জানা নেই কবে নির্মুল হবে এই করোনা ভাইরাস, কবে মিলবে মানবতার মুক্তি, কবে হবে পৃথিবী স্বাভাবিক!
স্কুল-কলেজ বন্ধচলছে অনলাইন ক্লাস! শেষ হচ্ছে অধ্যায়ের পর অধ্যায়। প্রয়োজন মেন্টরস পদ্ধতি চালু করা।
যাদের এন্ড্রয়েড মোবাইল কেনার সামর্থ্য আছে, বাসায় ভাল ইন্টারনেট সংযোগ আছে সেসব শিক্ষার্থীরাই জয়েন করতে পারছে! হয়তো শিখতেও পারছে কিছু কিছু! কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটা বৃহৎ অংশ রয়ে যাচ্ছে ক্লাসের বাইরে! তাদের নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে। তাদেরকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তাও বের করতে হবে।
তুলনামূলক ভাবে গরিব শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় পিছিয়ে পরছে। তবুও সরকারের অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেই উদ্যোগ কতটা সফল হয়েছে? অনলাইন ক্লাসে মধ্যমেধার পড়ুয়ারাই বা উপকৃত হচ্ছে কতটা?
শিক্ষা শিবিরের অনেকেরই বক্তব্য, অনলাইন-পাঠের সরঞ্জাম আছে, শহরাঞ্চলের এমন স্বয়ং সম্পূর্ণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা এই ব্যবস্থায় কমবেশি উপকৃত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ পড়ুয়া এর সুফল পাচ্ছে না। পরিকাঠামোর অভাব ছাড়াও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মুখোমুখি শিক্ষণ প্রক্রিয়ার অনেক মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা এতে নেই। নেই কুশলাদি আদান-প্রদান ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের মনে হাজারো প্রশ্ন থাকলেও জানা হয়না উত্তর! শিক্ষকতা সার্থকতা ও থেকে যায় আড়ালে। যদিও লাইভ ক্লাসে দুই-চারটে প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের থেকে পেয়ে থাকেন, তবুও শিশু মনের ভাবের পরিপূর্ণতা পেতে দরকার সরাসরি ক্লাস।
অনেক সময় অনলাইন ক্লাস ছেলে মেয়েদের একঘেয়ে লাগতে পারে। অনেক পড়ুয়ার অমনোযোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। স্কুলে ক্লাস চলাকালীন পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় পড়ুয়াদের মজার মজার কথাও বলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অনলাইন ক্লাসে সেগুলো না পেলে ক্লাস যান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে। ‘‘অনলাইন ক্লাসে একসঙ্গে অনেক ছেলেমেয়েকে না পড়িয়ে ছোট ছোট ‘গ্রুপ’ বা দল করে পড়ালে সব পড়ুয়ার প্রতি সমান মনোযোগ দিতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিছুক্ষণ পড়িয়ে একটু বিরতি দিয়ে ফের পড়াতে হবে। তা হলে আশা করা যায় মধ্যমেধার পড়ুয়া-সহ সকলেই উপকৃত হবে।
পাশাপাশি প্রয়োজন মেন্টরস পদ্ধতি চালু করা, যেখানে একজন শিক্ষক দায়িত্ব নিবেন একদল শিক্ষার্থীর, মোবাইলে পরামর্শ দিবেন। নিয়মিত খোঁজ-খবর নিবেন পড়াশোনার। আগ্রহী করে তুলবেন অনলাইনে ক্লাস গুলোতে জয়েন করতে! অভিভাবকদেরকেও গাইড করতে হবে। অনলাইন ক্লাসের সাথে সাথে বাসায় ধুলো জমে যাওয়া বইগুলো নেড়েচেরে দেখার প্রয়োজনটাও শিক্ষার্থীদেরকে অনুধাবন করতে বলতে হবে, বুঝাতে হবে। তবেই সার্থক হবে লকডাউনের এই সময়ে অনলাইন ক্লাস।
