দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: নদী নির্ভর বাংলাদেশ হলেও ইছমতি নদীর বেহাল দশা দেখা অবাহ হন পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘ দিনের প্রাণীর দাবির পরিপ্রেক্ষেতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীতে সুইসগেট নির্মাণসহ নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরিই ইছামতি নদীতে সুইসগেটসহ নদী খনন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী রুহুল আমিন। বুধবার বিকালে ইছামতির সোনাবাজু পয়েন্ট ও ধুলসুরার বোয়ালী পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রকৌশলী বলেন, সোনাবাজু এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় ইছামতি নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীর পানি চলালচল করতে পারে না। আমরা চাই এই নদীটি সচল হোক, এতে যেমন নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে তেমনি এঅঞ্চলের জীবন জীবিকার মান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে চালু হবে নদী পথ।
পরিদর্শন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সোনাবাজু এলাকায় নদীর মুখে সুইসগেট নির্মাণ। কিন্তু গত সরকার শুধু মুখে মুখেই বলেছে পরিকল্পনার নামে জনগণকে ধোকা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান যে সকার আছে তারা এই সুইসগেট নির্মাণ ও নদী খননসহ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামীতে যে নির্বাচিত সরকার আসবে তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরিই এই দাবি বাস্তবায়নের মুখ দেখবো।
এছাড়া প্রধান এই প্রকৌশলী সকালে আড়িয়াল বিল, কার্তিকপুর বাজার ও সর্বশেষ সোনাবাজু এলাকা পরিদর্শন করেন। রুহুল আমিন বলেন, ইছামতির এই প্রকল্পটি এশিয়ান ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক বাস্তবায়নের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মাধ্যমেই এই প্রকল্প বাস্তবায় হবে।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচলক (পরিকল্পনা) মোতাহার হোসেন, ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক, ঢাকা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত, অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহাদ হাসান, সহকারি প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মাসুদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, যুবদল নেতা আবুল হাসেম বেপারী, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির সাধারণসম্পাদক রাশিম মোল্লা, সেভ দ্যা সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্ট্রোম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, ইছামতি বাচাও আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আক্তার হোসেন প্রমুখ।
