মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস (মানিকগঞ্জ) : ফরিদপুর থেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে শা’দ পন্থি তাবলিগ জামাতে আসা ১৩ জনের মধ্যে মো. আব্দুল বাকী মিয়া (৬০) করোনা সনাক্ত হওয়ার পর একই জামাতের আরও ৩ জনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার মজিবর রহমান মোল্লা (৮০) হায়দার মোল্লা (৬৫) আমিনুর মোল্লা (৪৫)। জামাতের ২০ জনকে পরিক্ষা করে ৩ জনের করোনা সনাক্ত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহ নববাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও মাদ্রাসা সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ ফরিদপুর থেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বাইতুল মামুর ও মারকাযুল মা আরিফ ওয়াদা-দাওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামাতে এসেছিলেন ১৩ সদস্যের একটি দল। এদের মধ্যে গত শনিবার ফরিদপুরের মো. আব্দুল বাকী মিয়া (৬০) শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে ভর্তি করালে তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পরে।
পরবর্তীতে রবিবার ঐ মাদ্রাসাসহ সিংগাইর পৌরসভা লকডাউন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। সেই সাথে তাবলিগ জামাতের ১২ সদস্যকে মাদ্রাসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সাথে জামাতে যোগ দেয়া ৮ জনকে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইডিসিআরে পরীক্ষা করায়। পরিক্ষায় ৩ জনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়। ফলে দ্রুত তাদেরকে মঙ্গলবার (৭ই মার্চ) দুপুরে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখা হয়। আইসোলেশনের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় বুধবার (৮ই মার্চ) দুপুরে ঢাকার কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ ও সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লা নববাংলাকে জানান, ঐ ৩ ব্যক্তির শরীরে কেভিড-১৯ সনাক্ত হওয়ার পর তাদের মঙ্গলবার সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ওয়ার্ডে রাখা হয়। কিন্তু এখানে এর কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য রোগী ও আশপাশের লোকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ঐ ৩ জনকে আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় ঢাকা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা থেকে পাঠানো ১৩ জনের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে বলেও সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।
