সিংগাইরে জামশা বাসষ্টান্ড নিয়ে টানা-হেঁচড়া : যাত্রী দুর্ভোগে চরমে

রকিবুল হাসান বিশ্বাস:  মানিকগঞ্জের সিংগাইর দক্ষিন জামশা পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড স্থানান্তরের কারনে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে,বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলা জামশা ইউনিয়নে কালিগঙ্গা নদীর ওপর সেতু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়। ফলে শুকতারা সার্ভিসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল শুরু করে।

এ যানবাহন সার্ভিস সেবায় উপকৃত হচ্ছে নবাবগঞ্জ,দোহার,হরিরামপুর থানার আংশিক,জামশা ইউনিয়নসহ প্রায় বিশ হাজার লোকজন। সে মোতাবেক যাত্রীদের নিরাপত্তা,আর্থিক সাশ্রয়ের দিক বিবেচনা করে ২০১৪ সালে প্রায় ১ একর জমির উপর দক্ষিন জামশা চৌরাস্তা এলাকায় বাসষ্ট্যান্ড স্থাপিত হয়।

গত ১ বছর আগে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে উত্তর জামশার কতিপয় প্রভাবশালী লোকজন ফায়দা লুটের জন্য ব্রিজের উত্তর পাশে জনশূন্য এলাকায় ঐ বাসষ্ট্যান্ড স্থাপন করেন। এই বাসষ্টান্ডে নেই যাত্রীদের কোন নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা। বাসষ্ট্যান্ডটি জনশূন্য এলাকায় হওয়াতে সন্ধ্যার পর যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে মহিলা যাত্রীদের র্নিবিগ্নে বাড়ি ফিরতে ভীত সমভ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

এ ছাড়া সেতুর উত্তর পাশে জনশূন্য ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় মাদক বেচাকেনা ও সেবন,ছিনতাই,যৌন হয়রানি ডাকাতির মত ঘটনা ঘটার আশঙ্ক রয়েছে। এত নানা সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও বহাল তবিয়্যতে রয়েছে ঐ স্থানে বাসষ্ট্যান্ডটি। এদিকে,বাসষ্ট্যান্ডটি অন্যত্র সড়ে যাওয়ায় নদীর দক্ষিন অঞ্চলের স্কুল-কলেজ ও চাকরিজীবীদের ভোগান্তির যেন শেষ নাই। তাছাড়া বৃদ্ধা,অসুস্থ্য রোগী, গর্ভবতী মহিলারা সঠিক সময়ে সেবাদান কেন্দ্র পৌছাতে পারছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাই ঐ বাসষ্ট্যান্ডটি লোকালয় হওয়াতে পূর্বের জায়গা বহাল রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাসষ্ট্যান্ডটি সেতুর উত্তর পাশে হওয়াতে দক্ষিন অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্টি প্রায় ১ কিলোমিটার পায়ে হেটে এপার এসে বিভিন্ন যানবাহনে করে মানিকগঞ্জ,সিংগাইর,ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যেতে হয়। এমনকি সময়ক্ষেপন করে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দক্ষিন অঞ্চলের নিয়মিত পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন- আমাদের প্রতিদিন পায়ে হেটে ওপার গিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়। সময় ব্যয় হয়। বাড়তি ভাড়াও দিতে হচ্ছে। আসার পথে সন্ধ্যার পর কোন যানবাহন না পাওয়াতে র্দুভোগ পোহাতে হয়। দক্ষিণ জামশা ষ্ট্যান্ড হলে আমাদের সুবিধা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *