কাজী সোহেল : হেফাজতের ইসলামী বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আইন বাস্তবায়নে কোন বিকল্প নেই। সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। হত্যা, গুম, খুন সহ ১৫ বছরে রাজনীতির যত প্রকার হত্যা, বিডিআর হত্যা সহ সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশে আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা, ইসলামী আইন কানুন বাস্তবায়ন, ভারতের আগ্রাসন প্রতিরোধ এসব বিষয়ে বর্তমান সরকারকে সময়োপযোগী সংস্কার করতে হবে। জুলাই আগস্টে দেশে যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনে ও আইনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ।
আজ ২৮শে আগস্ট বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় নবাবগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নবাবগঞ্জ উপজেলার শাখা আয়োজিত বন্যায় দুর্গতদের সাহায্য, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সময় শাহাদাত বরণ কারীদের জন্য দোয়া মাহফিল ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আব্দুল হামিদ এসব কথা বলেন। তিনি আর বলেন, ছাত্র জনতার গন আন্দোলনের ফলে এদেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ যখন রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকের পতন করেছেন । এর মধ্য দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন করেছে। তাই এই আন্দোলনকে সার্থক করতে হলে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই । তাই অন্তবর্তী সরকারের কাছে আহ্বান ইসলাম বিরোধী যে সকল আইন কানুন তা বাতিল করতে হবে। ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কেবলমাত্র দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আনার কোন বিকল্প নেই। তাই সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সরকারের নেতৃত্বেই যে সংস্কার শুরু হয়েছে এই বৈষম্যমূলক সকল অবিচার দূর করতে হবে । এবং বাক স্বাধীনতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার করতে হবে।
বাংলাদেশ আমাদের সকল ধর্মের গোত্রের সহ অবস্থানের দেশ । তাই সকল সম্প্রদায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামাজিক জীব হিসেবে প্রত্যেকে উপরে রয়েছে। তাই যারা সংখ্যালঘু রয়েছেন প্রত্যেকের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তিদের উপর রয়েছে। কোন অবস্থাতেই অন্য কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর অত্যাচার নির্যাতন প্রতিরোধে সকল ঈমানদার ব্যক্তিদের একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এদেশের মানুষ অন্যায় অবিচার মাথা গুঁজে সহ্য করে । কিন্তু এক সময় তারা আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যায় প্রতিরোধ করে আসছে। তাই আন্দোলনের সংগ্রামের রক্ত কোনো অবস্থাতেই কোন স্বার্থের কারণে যেন ব্যর্থ না হয় সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারকে আমরা সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন ও গণআন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী বিদেহী আত্মার মাগফেরত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা নূর হোসেন কাসেমীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন
মুফতি ইব্রাহিম খলিল নবাবগঞ্জী, মুফতি ফরহাদ হোসেন , মাওলানা আব্দুর রাকিব , হাফেজ বাহালুল , মাওলানা আতাউর রহমান , মাওলানা হোসাইন , মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আব্দুল গফুর প্রমুখ।
