লাশবাহী গাড়িতে সচরাচর তল্লাশি চালায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, সেই সুযোগ নিয়েই ফেনসিডিল পাচার করছিল দুর্বৃত্তরা।
শুধু তাই নয়, গাড়ির ভেতরে কাফনের মতো করে সাদা কাপড় পেঁচিয়ে ফেনসিডিলের বোতলগুলো লাশের আকৃতি দেওয়া হয়েছিল। আর লাশবাহী গাড়ির ‘লাশের’ স্বজন সেজে পেছনে আরেকটি গাড়িতে ছিল পাচারকারীরা।
তবে তাতেও রক্ষা হয়নি; অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল পাচারের এই চক্র রোববার বিকালে ঢাকার শাহবাগে ধরা পড়েছে।
এই পাচারে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মাহাবুবুল হাসান (২৯), হাসানুর রহমান সবুজ (২২), মো. সোহেল মিয়া ওরফে এমিলি (২৫) ও রোমন (২৩)।
তাদের কাছ থেকে ২ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে লাশবাহী গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি করে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ফেন্সিডিলভরতি বস্তা উদ্ধার করা হয়।”
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কুমিল্লা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে। এই চালানটি এনেছিল কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে।
পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর বলেন, এই চক্রের ‘হোতা’ এমিলি, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। আর লাশবাহী গাড়িটি চালিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান।
“এ চক্রের সবাই একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে এবং জেলে গিয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে আবার সেই মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পড়ছে।”
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।
এদিকে রোববার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে শামীম হোসেন (৪১) ও আলামিন সরদার নামে দুই মাদক কারবারিকে এক হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছে।
মশিউর বলেন, “তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা থেকে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল এনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করছিল।”
