বাবার জানাজায় অংশ নিতে মাত্র তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, স্মৃতি তুলে ধরলেন জামায়াত নেতার ছেলে

কারাগারে থাকা অবস্থায় পিতার মৃত্যুর পর মাত্র তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে মামুন আব্দুল্লাহ আরমান। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চলমান নেতিবাচক আলোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তাঁর বাবার সেই বেদনাবিধুর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

মামুনের স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো- “দীপু মনির স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে অনেক নেগেটিভ ফ্রেমিং হচ্ছে। আমাদের সময় কি হয়েছিল জানেন? কারাগারে থাকা অবস্থায় পিতার মৃত্যুতে মাত্র ৩ ঘন্টার মুক্তি পেয়ে জানাযা পড়াতে এসেছিলেন আমার মজলুম পিতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। বাঁধ ভাঙা কান্না নিয়ে সেদিন হাজির হয়েছিলেন পিতার প্রাণহীন দেহের পাশে। সেই পিতা, যার সাথে একসাথে লাঙল টেনেছেন। সেই কৃষক পিতা, যে রোজ ফজরের আজানের আগে তরুণ পরওয়ারকে ঘুম থেকে ডেকে বলতেন- ‘আব্বা, উঠে পড়তে বসো। এই সময়ের পড়ায় বরকত বেশি’।

সেই পিতাকে তিনি দাফনও করে যেতে পারেননি।  পিতার নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো কেঁদেছিলেন আমার আব্বা। তাকে কোনোদিন এতটা কাঁদতে দেখিনি। অঝরে কাঁদলেন। নিজের কলিজার টুকরা পিতার ঠান্ডা মুখে শেষ চুমুটা এঁকে দিলেন পরম দোয়ায়, ভালোবাসায়। আমরা নিথর শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলাম।

আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান চাচা আব্বুর কান্নারত চেহারায়, চোখে, কপালে অসংখ্য চুমু দিলেন। আব্বুর এই কান্নাভেজা মুখ দেখে আমিও সইতে না পেরে জীবনে প্রথম বারের মতো আব্বুর কপালে চুমু একে দিয়েছিলাম। ঠিক যেভাবে তিনি সবসময় দাদুকে কপালে চুমু দিতেন। অতঃপর আব্বু জানাযা পড়ালেন, দু’হাত তুলে মোনাজাত করলেন। তারপর আবার ফিরে গেলেন জালিমের সেই চার দেয়ালে- যেখানে তিনি বন্দি ছিলেন প্রায় ৮ বছর। কি সেক্রিফাইস, কি জুলুম! আল্লাহ তুমি জান্নাতে তাদের আবার একত্র করে দিও। আর আমাদের পরিবারকে দাও সবর, খুলুসিয়াত ও পুরস্কার। আমিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *