দোহারে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে টিনের প্রাচীর ভেঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহারে দীর্ঘ ৪০ বছর পূর্বে ক্রয়কৃত সম্পত্তির টিনের প্রাচীর ভেঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আজ (৫আগস্ট) বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে জমির মালিক এম.এ রহিম সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করে বলেন, আমি ১৯৮২ সালে আমার ভগ্নীপতি আব্দুল মুন্নাফ মারা যাওয়ার পর তার ২য় স্ত্রী ছকিনা খাতুন ৬ সন্তান নিয়ে আর্থিক ভাবে অসহায় হয়ে পরে। এতে তিনি তার সন্তানদের ভরণ পোষণ করতে নানা সমস্যার সম্মক্ষীন হন। পরে তিনি তার স্বামীর প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে নিজ এবং সন্তানদের ওয়ারিশ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তার সন্তানগণ নাবালক ছিলো। তাই ছকিনা খাতুন সন্তানদের ভরণ পোষণের জন্য অভিবাবক হয়ে জমি বিক্রির অনুমতি চেয়ে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ছকিনাকে জমি বিক্রির অনুমতি দেন। তখন আমি তার কাছ থেকে জমি ক্রয় করি। তখন আমার ভগ্নীপতির আপন মেয়ে রেনু এবং ছেলে হান্নান জমি বিক্রি করেনি। কিন্তু ২০০০ সালে তারা তাদের জমি বিক্রি করতে চাইলে আমি তাদের জমি ক্রয় করি। এতে তাদের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া প্রাপ্ত জমি ৮৬ শতাংশ জমি পুরোটাই আমি ক্রয় করি।
টিনের প্রাচীর ভেঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা করা কারণ জানতে চাইলে এম এ রহিম বলেন, আমি ছকিনা খাতুন গংদের কাছ থেকে ১৯৮২ ও ২০০০ সালে মইতপাড়া মোজার ৩৯৫ দাগের ৮৬ শতাংশ জমি ক্রয় করি।

অপর দিকে মোবারক আলী গং দাবি করছেন, তারা ছকিনা খাতুন গংদের কাছ থেকে ১৯৮৩ ও ১৯৯৭ সালে জমি ক্রয় করেন। দুইজনেই এই জমির মালিকানা দাবি করায় আদালতে মামলা চলমান।
তিনি আরও বলেন, মোবারক আলী, আব্দুর রহিম, শাহিন, সেলিম গংরা গত মঙ্গলবার রাতে টিনের প্রাচীর ভাঙ্গার চেষ্টা করে। পরে আমি রাতেই বিষয়টি পুলিশকে জানাই।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তারাসহ কয়েকজন মিলে আমার দেওয়া পুরো টিনের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। আমি সাথে সাথে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে ঘটানার স্থান পরিদর্শন করে সবাইকে সাবধান করে চলে যান। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার পর পরই তারা পুনরায় ভাংচুর চালায়। আমি এব্যাপারে স্থানিয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

ভাংচুরের ব্যপারে জানতে চাইলে, একই জমির মালিক দাবি করা মোবারক হোসেন বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাই না। দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে আমাদের থানায় যেতে বলেছেন। আমি তার সাথে কথা বলা শেষে আপনাদের সাথে কথা বলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *