দোহারের জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তির দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার দোহার উপজেলায় জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯’শ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পরায় পুনরায় ভর্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষা দেওয়ার পর অকৃতকার্য হওয়ায় স্কুল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আব্দুল খালেক। এমন সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পরেছে শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে অভিভাবকরা জানান, গত বছর ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলেই সহজেই অন্য স্কুলে ভর্তি হতে পারছে না। এমন হটকারী সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে আমাদের ছেলে মেয়েরা। অন্যান্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ছুটোছুটি করলেও মিলছে না ভর্তি নিশ্চয়তা। তাই বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা ।

তারা আরও দাবি করেন এক ক্লাসে ২য় বার পড়ার সুযোগ রয়েছে দেশের নামিদামি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে । তবে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন সে সুযোগ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। প্রথমবার অকৃতকার্য হলে স্কুল ছাড়তে হবে পূর্বে এ ধরনের কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল ইমরান জানান, স্কুলের চুড়ান্ত পরীক্ষার আগে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল এক বিষয়ে ফেল করলে উত্তীর্ণ করা হবে না। কিন্তু স্কুল ছাড়তে হবে এ ব্যাপারে আমাদেরকে কোনো নোটিশ করেনি।

জামাল উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর ফেল করার দায় এড়াতে পারে না জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। দায় এড়াতে এখন শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বের করে দিবে এটা কোনো ধরনের আচরণ।

কাজী নওশের আলী নামে আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে অন্য স্কুলে যেতে শিক্ষাবোর্ডের মাধ্যমে যেতে হবে একটা জটিলতা। এধরনের জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় এ স্কুলেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ চান তারা।

জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যাললের প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল খালেক বলেন, সরকারি নিয়মানুসারে একটি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৬০ জন শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পাবে। তারপরও আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নীতিমালা করে ৮০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। তবে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ঠ কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী মিয়া বলেন, বিদ্যালযের শিক্ষার্থীরা তো আমাদের সন্তানের মতো। তারা যদি কোনো ধরনের ভুলে করে থাকে তাহলে অন্তত একটি বার সুযোগ দিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তারা কোথায় যাবে এটাও বিবেচনা করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *