নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের কৈবর্ত্যপাড়ায় হাজী সিরাজের বাড়ি চতুর্থ তলার একটি ঘর থেকে বিল্লাল (৩০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত বিল্লাল শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার বাউইকান্দি গ্রামের সিরাজ মাঝির ছেলে এবং স্থানীয় কালিগঞ্জ বাজারের পাতিলাপট্টি দর্জির কাজ করতো।
নিহতের পিতা সিরাজ মাঝি জানান, ছেলে, ছেলের বউ ও সন্তানসহ আমরা একই বাড়িতেই ভাড়া থাকতাম। ছেলে মাদকাসক্ত থাকায় স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ আমাকে করতে হতো।
এ নিয়ে প্রায়ই ওর সাথে তর্ক বিতর্ক কথা কাটাকাটি লেগেই থাকতো। এরই এক পর্যায়ে আজ সকালে ছেলের সাথে আমার ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে বাস্তা ইউনিয়নের ভাওয়ারভিটি এলাকার রাস্তার পাশে অজ্ঞাত (৩৫) এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জিন্সের প্যান্ট ,সাদা শার্ট ও কালো রাঙের জ্যাকেট পরহিত লাশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের চিহৃ ছিলো।
অপরদিকে একই দিন অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা ঢাকা বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে গলায় কলসি বাধা অবস্থায় মৃত্যুর ৪ দিন পর ফুলচান সরকার (৫০) নামের অপর ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা নৌপুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে পরিবারের লোকজনের সাথে অভিমান করে ৪ সন্তানের জনক ফুলচান সরকার ৫ ফেব্রুয়ারী গলায় রঁশি ও কলসি বেধে ধলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিখোঁজের পর ডুবুরি দল নিয়ে খোজাখুজি করার পরও তার লাশের সন্ধান মিলেনি। পরে মৃত্যুর ৪দিন পর স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা নৌ পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করে। লাশটি রুহিতপুর চিতাখোলায় সৎকারের প্রস্তুতি চলছে।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। দক্ষিণ থানায় সংগঠিত দুটিই হত্যা মনে করা হচ্ছে।
প্রথমটি পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা বলা হলেও আলামত কিছুটা সন্দেহজনক থাকায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরটি গতকালই মামলা হয়েছে।
