এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের কেয়াইন ইউনিয়নের হাজিগাও গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ( ২০ মে) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে মুখোশধারী ২০ -২৫ জনের একটি ডাকাত দল সশস্ত্র অবস্থায় মো.আবুল মুন্সীর তিন তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর নীচতলার দরজা ভেঙ্গে ভীতরে প্রবেশ করে ডাকাতি করে। এ সময় ডাকাতদল ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পায়ের হাটুর নিচে ককটেলের বারুদের আঘাত লেগে আয়শা আক্তার নামে এক নারী আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে সিরাজদীখান থানা পুলিশ। এ ঘটনা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ডাকাতরা মৃত আবুল মুন্সীর মেয়ে পারভিন আক্তার (৫০),ছেলে ফরিদ মুন্সী (৪৭)ও মামুন মুন্সীকে (৩৮)অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মারধর করে।
ডাকাতির শিকার পরিবারটি দাবী ডাকাতদল ঘরের আলমারি ও মূল্যবান মালামাল তছনছ করে
পারভীন আক্তারের জমি বিক্রির ২১ লাখ,ফরিদ মুন্সীর ৪ লাখ টাকা, ১৩ ভড়ি স্বর্ণ ও ৩ টি মোবাইল সেট লুটে নেয় ডাকাত দল। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা বলেও পরিবারের দাবী করেন।
ফরিদ মুন্সী জানান,প্রথমেই তারা বাড়ীর সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্কে সৃষ্টি করে। দরজা ভেঙ্গে ঘরে ডুকে। আমার স্ত্রী আয়েশাকে মারধর করে,আমার স্ত্রীর পায়ের হাটুর নিচে ককটেলের বারুদের আঘাত লাগে। এ সময় পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে আমার বোন পারভীনের জমি বিক্রির ২১ লাখ আমার কোরবানীর গরু কেনার ৪ লাখ, ১৩ ভড়ি স্বর্ণ আর ৩টি মোবাইল সেট লুটে নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ কামরান হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদীখান সার্কেল) আনোয়ার পারভেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন । জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।মামলা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার হয়েছে।
