মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস(মানিকগঞ্জ): সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে জনজীবন স্থবির। মানুষ কিভাবে বেঁচে থাকবে সেই চিন্তায় চিন্তিত। আর এই মুহূর্তে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রতিবেশীর সাথে পারিবারিক কলহের জেরে যাতায়াতের রাস্তা বাশেঁর বেড়া দিয়ে আটকিয়ে ৩ মাস ধরে জিম্মি করে রেখেছেন এক দিনমজুর পরিবারকে এমন অভিযোগ ওঠেছে প্রভাবশালী মো.আব্দুল হালিম ও তার ভাই মো.মগর আলীর বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটেছে সিংগাইর উপজেলার সায়েস্থা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহরাইল গ্রামে।
ভুক্তভোগী দিনমজুর মো.ছোরহাব হোসেন ওই এলাকার মো.হুকুম আলীর ছেলে। প্রতিপক্ষ পাশের বাড়ির মৃত.মুস্তির ছেলে মো.আব্দুল হালিম(৫৫) ও তার ছোট ভাই মগর আলী (৪৫)।
ভুক্তভোগী মো.ছোরহাব হোসেন বলেন,আমার বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত এসএ ২১৭৩ দাগে ৫৪ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৪ শতাংশ জায়গা আমার বাবা বিক্রি করে দেয়। ১৩ শতাংশ জায়গা আমার বাড়ি রয়েছে। বাকি ১৭ শতাংশ জায়গা জোড় করে প্রতিবেশি আব্দুল হালিম ও মগর আলি ভোগ দখল করে আছে। আমরা প্রতিপক্ষের নামে আদালতে মামলা দেই। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেয়। প্রতিপক্ষ আপিল করলে দু,বারই আমাদের পক্ষে রায় দেয় আদালত ।
কিন্তু প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়াতে জমির দখল না পাওয়ায় আবারও আদালতে উচ্ছেদ মামলা দেয় ভুক্তভোগী। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ উচ্ছেদ মামলার রায় দেয়ার কথাশুনে ছোরহাবের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে তিনি গরু,ছাগল ও সাংসারিক কাজসহ চলাফেরায় চরম দূর্ভোগে শিকার হয়ে নিরীহ দিনমজুর পরিবারটি ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি ওই নিরীহ দিনমজুর পরিবারটি। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল হালিমের বাড়ির ওপর দিয়ে ভুক্তভোগী ছোরহাবের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা। পারিবারিক কলহের জেরে ৩ মাস যাবৎ বাশেঁর বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াতে নিরীহ দিনমজুর ওই পরিবারটি পাশের বাড়ির ব্যক্তিদের হাতে জিম্মি হয়ে রয়েছে। ৩ মাসেও কোন বিচার না পাওয়াতে হতাশ ভুক্তভোগী পরিবারটি।
প্রতিপক্ষ মো.আব্দুল হালিম বেড়া দেয়া অন্যায় হয়েছে স্বীকার করে বলেন-ও মাঝে মধ্যে বিবাহ করে। বউকে মারধর করে। আমরা কিছু বললে আমাদের পরিবারসহ সবাইকে গালি-গালাজ করে এ জন্য বেড়া দিয়েছি। আপনারা আসছেন বেড়া ওঠাই দিয়ে যান। জমির মামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন-আমাদের কেনা সম্পত্তি। আদালতে মামলা চলছে। আদালতে যা হয় হবে।
হালিমের আত্বীয় আব্দুল মান্নান বলেন- মামলায় রায় যে পক্ষে আসবে। সে জায়গা ভোগ দখল করবে। বেড়া দেয়ার বিষয়টি এক জায়গা বসে মিমাংসা দিতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.জাফর আলী বলেন-আপনার কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম। আমি সকালে গিয়ে দেখব।
সায়েস্তা ইউপি চেয়ারম্যান মো.মোসলেমউদ্দিন চোকদার বলেন-যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করা এটা অন্যায় কাজ। আমি বিষয়টি ছোরহাবের কাছ থেকে শুনে হালিমকে ডেকে এনে বেড়া তুলে দিতে বলেছি। ও আমার কথা শুনছে না।
