সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : আসন্ন মানিকগঞ্জ সিংগাইর পৌরসভার নির্বাচন ২৮ শে ফেব্রুয়ারি। আর মাত্র ৪দিন বাকি। এবার ভোট হবে ইভিএমএ। এ পৌরসভা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন। উপজেলা আ’লীগের সদস্য আবু নাঈম মো. বাশার (নৌকা প্রতীক) ও অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া জয় (ধানের শীষ প্রতীক)। দিন যত ঘনিয়ে আসছে পৌর এলাকা তত জমে ওঠছে।
ইতিমধ্যে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোস্টার দিয়ে ছেয়ে গেছে পুড়া এলাকা। বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে গান রের্কডিং করে মাইক দিয়ে প্রতিনিয়ত ভোট চাচ্ছে ভোটারদের কাছে। তাছাড়া নৌকার কান্ডারি আবু নাঈম মো. বাশার ৯টি ওয়ার্ডের পাড়া, মহল্লায় ওঠান-বৈঠক, প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্থসময় পার করছে। এমনকি এবছর দলের মধ্যে কোনো কোন্দল না থাকায় আ’লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছে ভোটারদের কাছে। এতে ভোটারদের সারাও পাচ্ছে ভালো।
পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূঁইয়া জয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা তেমন চোঁখে পরছে না। গান রেকডিং করে প্রচার-প্রচারনা করলেও তেমন কোথাও পোস্টার ঝুলানো দেখা যাচ্ছে না। এতে বিএনপির প্রার্থী নিরব দেখা যায়।
অন্যদিকে ৯টি ওয়ার্ডের ২৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সবাই যার যার গুনর্কীতন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছে প্রার্থীরা। সব মিলে পৌর সভা এলাকা এখন জমজমাট।
সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু নাঈম মো. বাশার এর জোয়ার বেশি। নৌকা বিজয়ী হবে এমননি আশাবাদী পৌরবাসীর। নৌকা প্রতীকের আবু নাঈম মো. বাশার প্রতিবেদক কে বলেন-আমার জন্য দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। এবার পৌরবাসী আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলে- নির্বাচিত হলে অবহেলিত পৌরসভা কে ডিজিটাল ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করব।
অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া জয় এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- নির্বাচনের তো আর সময় নেই। তবে প্রশাসনের যথেষ্ঠ সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠ হবে আশাবাদী। আমার কর্মীরা সব এলাকায় ভোটারদের ভোট প্রার্থনা করছে। আমি শতভাগ আশাবাদী নির্বাচিত হব। নির্বাচিত হলে হলে অসমাপ্ত কাজগুলি দ্রত সম্পূর্ন করব।
২০০১ সালে এ পৌরসভা গঠিত। পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর ততকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামচুন্নাহার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ৩০ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আ’লীগের মীর মো. শাহাজাহান ২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। পরবর্তী ২০১১ সালে ১৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে আ’লীগের কোন্দলের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হন । ফলে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে একই চিত্র হওয়া বিএনপি প্রার্থী আবারও বিজয়ী হন।
এ পৌরসভা এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৬৮৫ এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা-১১ হাজার ১২০জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা-১১ হাজার ৫৬৫ জন।
জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং অফিসার শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন- সুষ্ঠ ও সন্দুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
