মো. সুজন হোসেন: মুহাম্মদ তানভীর শরীফ, বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা টিকরপুর এলাকার আগলার চরে । ২০০৯ সালে বেসিক কারিগরি শিক্ষা নিয়ে মেলিফেরা ইউরোপিয়ান প্রজাতি মৌ-মাছি দিয়ে অনেকটা শখের খেয়ালে মাত্র ১১ টি বক্স দিয়ে মৌ-চাষ শুরু করেন নিজ গ্রামে। বর্তমানে তার মধু আহরণের বক্সের সংখ্যা ২৫টি। পৌষ-মাঘ মাসে সরিষা ফুলে প্রচুর পরিমাণে মধু থাকায় বছরে ৩/৪ বার মধু আহরন করে স্বল্প সময়ে অর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তানভীর। সরেজমিনে নবাবগঞ্জে তার মৌমাছি খামারে গেলে জানা যায় মৌ-চাষের বিভিন্ন দিক ও সম্ভাবনার কথা।
মধু চাষ ও আহরণ সম্পর্কে মুহাম্মদ তানভীর শরীফ জানান, একটি কলোনিতে ২০ হাজার শ্রমিক মৌ-মাছি থাকেন , কিন্তুু মৌ- রানী থাকেন একজন । শ্রমিক মৌ-মাছিগুলো সারাদিন মধু সংগ্রহ করেন । ১১টি কলোনি থেকে ৭ দিনে ১শ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায় । যার বাজার মূল্য ৬০ হাজার টাকা । এছাড়া মৌ-মাছিরা গাছের পরাগায়নের ঘটানোর ফলে সরিষার উৎপাদন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। এটি পরিবেশ বান্ধব একটি ক্ষুদ্র শিল্প হওয়ায় মধু আহরণের ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তানভীর আরও বলেন, আমরা নিজেরাও জানিনা সরিষা থেকে কি পরিমানে আমরা মধু হারিয়ে ফেলি। মহান আল্লাহ সরিষা থেকে মধু নেওয়ার কোন ক্ষমতা আমাদের দেয়নি। তবে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৌমাছি থেকে আমরা মধু আহরণ করতে পারি। তবে যারা সরিষার চাষ করেন কোন প্রকার বিষাক্ত কিটনাশক দিলে মৌমাছির অনেক ক্ষতি হয়। ভালো মানের মধুও পাওয়া যায় না। তানভীর মনে করেন এই খাতে সরকারিভাবে বেসিক কারিগরি শিক্ষা সহাযোগিতা পাওয়া গেলে তার মত হাজারো তরুন মৌ-চাষে আগ্রহী হয়ে দেশে বেকারত্ব দুরীকরন ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
এদিকে মধু আহরেণের ক্ষেত্রে তানভীরের এমন সম্ভাবনা দেখে ঐ এলাকার অনেক যুবক এখন এই পেশায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সঠিক নিয়ম মেনে মধু আহরণ করলে এই ক্ষুদ্র শিল্পটি বৃহত আকারে পরিচালিত করা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে।
মো. রহিম নামে পাশের জমিতে সরিষার আবাদ করা এক কৃষক বলেন, মৌমাছির কারনে আগের তুলনায় এই বছরে আমার জমিতে সরিষার উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মো.নাহিদুজ্জামান জানান, মৌ চাষিদের জন্য তেমন সহায়তা না থাকলেও সরিষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় এটি একটি সম্ভাবনার দিক। তিনি আরও বলেন মৌ চাষে যদি তানভীর সরকারি সহায়তা চায় তাহলে আমরা তাকে সরকারি ভাবে ঋণ সহায়তা দিতে পরবো। তিনি বলেন, তানভীরকে দেখে আরও তরুনরা প্রতিটি গ্রামে এই পেশায় এগিয়ে আসলে একদিকে দেশে সরিষা চাহিদা মিটিয়ে মধু আহরণ করে তারা স্ববলম্বী হতে পারবে। অন্যদিকে দেশের বেকারত্ব কমে যাবে।
