দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহারে ‘রক্তস্নাত জুলাই স্মরণে নারী সমাবেশ’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দোহার উপজেলা ও পৌরসভা মহিলা বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দোহার-নবাবগঞ্জের ‘জুলাই কন্যা’ শারমিন আক্তার, সাহিদা আক্তার, মৌসুমি আক্তার, সুমাইয়া আফরিন, এরিনা, আমাতুল্লাহিল নাবিলা, মায়মুনা আক্তার, নুসাইবা ও সাঈদা মুঞ্জিয়া সহ বেশ কয়েকজন নারীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় সংবর্ধিতরা আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মোরশেদা সুলতানা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দলমত-নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে এক সুতায় গেঁথেছে। একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলসহ দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য সাহিনা সুলতানা নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল জাতীয় ঐক্য রক্ষা, বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং সর্বস্তরের নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি জেলা কর্মপরিষদ সদস্য সাহানারা ভুঁইয়া বলেন, “জুলাই আন্দোলনে নারীরা সম্মুখসারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং রাজনীতিতে নারীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও জুলাই যোদ্ধা দিলারা খানম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। আহতদের সুচিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসনে ব্যর্থতা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।”
মাসুমা বিল্লাহর সঞ্চালনায় এবং হাফেজা আসমা আক্তারের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা সহকারী সেক্রেটারি লতিফা আক্তার। পরে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও দেশাত্মবোধক গীতিআলেখ্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন তরুণ লেখিকা শারমিন আক্তার ও আনিসা আক্তার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার দোহার থানা সভানেত্রী আমাতুল্লাহিল নাবিলা।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকবৃন্দ ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দোহার থানা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি পারভীন আক্তার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সর্বদা অটল থাকবে এবং সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাবে।”
অনুষ্ঠান শেষে দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
