দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি. ঢাকার নবাবগঞ্জ দোহার সহ আশেপাশের এলাকার অন্তত দশ হাজার বিনিয়োগকারীর প্রায় ৩০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন ‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’ নামে একটি ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষার্থী, বেকার যুবক-যুবতীদের যুক্ত করেন। অনলাইনে আইডি খুলে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এ প্রতারণা করেছেন বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।
চীনের ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রোডাক্ট কোম্পানী ‘টিয়ানশি’ দিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উল্টো দিকের একটি বিল্ডিংয়ের তিন তলায় ভাড়ার অফিসে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সিংজোর গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল উদ্দিন আহমেদ। সেখানে অসংখ্য নারী-পুরুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণায় বাধ্য করা হয়। তারা বুঝে ওঠার আগেই জালে জড়িয়ে যান।
স্থানীয়রা প্রতারণা বুঝে গেলে সেখান থেকে তারা নবাবগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকের একটি ফ্লাট ভাড়া নেয়। সেখানে জালাল উদ্দিন ও ঝুমুরি শীলের নেতৃত্বে ‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’ নামে একটি ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান খুলে আরও বড় প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। অনলাইনে আইডি খুলে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অন্তত দশ হাজার বিনিয়োগকারীর প্রায় ৩০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন পালের গোদা জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ই-কমার্সের সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রতি আইডি ১৬শ’ টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহক ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিনিয়োগের অর্ধেক টাকা ফেরত পান। পরবর্তীতে সফটওয়ারে বিজ্ঞাপণ ক্লিক করে প্রতিদিন ১০ টাকা করে আয় করার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে মাল্টিলেভেল মেন্টেন করে লভ্যাংশ বন্টন করা হয় বলে বিনিয়োগকারীরা জানান।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের শ্যামল শীল জানান, প্রতিবেশি বাসুদেব শীলের মাধ্যমে তিনিসহ তার সংগ্রহের ৩০ গ্রাহকের ৮ লাখ টাকার বেশি ‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’ এ বিনিয়োগ করেছেন। কোম্পানীর নবাবগঞ্জের প্রধান কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন ও ঝুমুরি আত্মগোপনে থাকায় বাসুদেব শীল তাকে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। নিজের টাকা গেছে, এবার সংগৃহীত বিনিয়োগকারীরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে টাকা ফেরত পাবার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আকাশ জানান, ‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’-এ তার সহ বিনিয়োগকারীদের ১০ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। সংগৃহীত বিনিয়োগকারীরা চাপ দিচ্ছে। তারা বাড়িতে হামলা পর্যন্ত করেছে। বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছি।
নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা, বিনিয়োগকারী সুরভি আক্তার জানান, নবাবগঞ্জের জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন আক্তারের মাধ্যমে ‘আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড’-এ ১ লাখ ৮০ হাজার বিনিয়োগ করেছেন। কাকুতি মিনতি করে ৩০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। দেড় বছর হয়ে গেল, বাকি টাকা চাইলে তার স্বামী আমাকে ভয় দেখান। আমার এক চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী বিথী আক্তারের কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন, এখন দিচ্ছেন না।
পুরাতন বান্দুরা এলাকার আদুরী গমেজ দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন জানিয়ে বলেন, আপনারা আছেন। আপনাদের মাধ্যমে আমি টাকা ফেরত নেব। কোন ভাবে ওরা আমার টাকা মারতে পারবে না।
আত্মগোপনকারী জালাল উদ্দিন আহমেদকে মুঠোফোনে এবিষয়ে জানালে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের পথে। সবাইকে আইডির মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। নতুনদেরও লেনদেন হচ্ছে। মূল টাকার অংশ যাদের আছে, তারা টাকা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রিপন, সিয়াম, আবু বক্কর, ওয়াসিম টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি।
এবিষয়ে জানাতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মতিউর রহমান বলেন, আনজাম গ্লোবাল লিমিটেড ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ শুরভী আক্তার নামে এক মহিলা কাছ থেকে ২লাখ টাকা নিয়েছে কিন্তু এখন তা ফেরত দিচ্ছেনা এমন অভিযোগ নিয়ে শুরভী আক্তার নামে এক মহিলা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি তাকে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ সিরাজুল ইসলামের কাছে পাঠিয়ে দেই। তিনি আরও বলেন, ৩০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও জালাল বিষয়টি সতত্যা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
