বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর উপর হামলা প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শিমুল ও তার শাশুড়ি রমেলা বেগমের উপর হামলা ও হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দুধঘাটায় এলাকায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে আহতদের পরিবারসহ ৫শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিমুলের মত বিএনপির ত্যাগী নেতাকে গত ১১ এপ্রিল প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন দুর্বৃত্তরা। তবে দুঃখের বিষয় ঘটনার এতদিন অতিবাহিত হলেও একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি । দিন-দুপুরে হামলা করেও সন্ত্রাসীরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এসময় তাঁরা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে বড় ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ স্থানীয় আব্দুল আজিজ, আব্দুল হাই, কাজী শহিদুল্লা ও ইউনুস আলীর নেতৃত্বে আতিকুর রহমান, সিফাত, সজিব, সোহাগসহ ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্তরা এ হামলায় অংশ নেন। আহত বিএনপির নেতা শিমুলের বাবা এমএ রাজ্জাক বলেন, ওরা হত্যার উদ্দেশ্যেই আমার ছেলে ও তার শাশুড়ির উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এখনো কোনো আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওত্বায় আনা হোক।

এসময় দোষীদের কঠিন শাস্তি দাবি করেন তিনি। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ জামশা গিয়ে শেষ হয়।

উল্লখ্য, ১১এপ্রিল সকাল ৮টায় শোল্লা ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে শাশুড়িকে নিয়ে বের হয় শিমুল। এসময় রাস্তায় উৎ পেতে থাকা দৃর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। শিমুল আগামী ইউপি নির্বাচনে শোল্লা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা করে আসছিলো।

স্থানয়ীরা জানায়, দক্ষিণ জামসা গাজী চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড়ে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা ৮-১০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী। মোটরসাইকেলটি মোড় পার হওয়ার সময় তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাঁকে শিমুলকে এলাপাতারী কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে। পাশে থাকা শাশুড়ি চিৎকার করে জামাতাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

এসময় বৃদ্ধের বাম পায়ে কোপ লেগে জখম হয়। জানা গেছে, দুধঘাটা-জামসা-সুকানিপাড়া মাদ্রাসা ও ঈদগাহর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আজিজ মাস্টার ও কাজী শহীদুল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে বিএনপি নেতা শিমুলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল।

গত ৯ এপ্রিল স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকে বিষয়টি ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকেই কাজী শহীদুল্লাহ বিএনপি নেতা শিমুলকে ‘দেখে নেওয়ার’ প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। এঘটনার প্রতিবাদের শুক্রবার বিকেলে জামতলা এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী হামলার প্রতিবাদের মানববন্ধ করে। এসময় তাঁরা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানায়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম খান বলেন, হামলাকারিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *