মো. নাজমুল হোসেন: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদীর তীরে জমিদার ব্রজেন রায় ওরফে সুদর্শন রায় কর্তৃক প্রায় দুইশ বছর পূর্বে নির্মিত প্রাসাদ “ব্রজ নিকেতন”। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়েছে। তালিকা ভুক্ত এই সম্পদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অবৈধ দখলদার থেকে সরকার তা ফেরত পেয়েছে। শুধু তাই নয় জজবাড়ি নামে ঘোষিত বাড়িটি এখন জনগণের সম্পদ হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপণ দিয়েছে। গত ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপণটি জারি করা হলেও ২৬ জুলাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটি পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করে পূণরায় ঘোষণা করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় The` Antiquities Act-1968 (Amendment Ordinance, 1976) এর ১০ ধারা অনুযায়ী জমিদার বাড়ি ব্রজ নিকেতন ভবনটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত পূর্বক প্রজ্ঞাপণ জারি করা হলো।
জানাযায় নবাবগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর মৌজার অর্পিত সম্পত্তি কেস নং ১২৮৩/৬৭ ও ৩৪৭/৮৫ এর আওতাধীন এস এ দাগ ২৯, ২৮ ও ২৭ নং দাগে (০.৭১+.০.৪২+০.৪২= ১.৫৫ একর) ভূমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভূক্ত রয়েছে।
সূত্র জানায়, সুদীর্ঘ বছর ধরে পেশী শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি মহল অবৈধভাবে এই ‘ব্রজ নিকেতন’ দখলে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয় এই ব্রজ নিকেতন দখল করে নাম পাল্টে করা হয় জজ বাড়ি। সূত্র আরোও জানায় জমির সি এস, এস এ রেকর্ডীয় মালিক ও তাদের ওয়ারিশগণ দেশ বিভাগের সময় সবাই ভারত চলে গিয়েছে। জমির মালিক না হয়েও প্রভাব খাটিয়ে বে-আইনী দখলদারগণ এই প্রাসাদ দখলে রেখেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রহমানের সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক গত ৩১ ডিসেম্বর “ব্রজ নিকেতন” কে অবৈধ দখলদার মুক্ত করা হয়। কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)।
উল্লেখ্য নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার একরের অধিক অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আ. হালিম যোগদানের পর গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৩৫ একর অর্পিত সম্পত্তি বেআইনী দখলদারের থেকে উদ্ধার করে আইন অনুযায়ী লীজ প্রদান করেছেন। এ থেকে সরকারের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
এব্যাপারে মুঠোফোনে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি। আপনারা জানেন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে ব্রজ নিকেতন দখলে ছিলো । আমরা দখলদার মুক্ত করেছি। আমরা যদিও নবাবগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী নাগরিক নই, তবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে জজ বাড়ি নবাবগঞ্জ বাসিকে উপহার দিয়ে গেলাম। এই চ্যালেঞ্জিং কাজ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান সাহেবের ছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছে।
মতিউর আরোও বলেন, নবাবগঞ্জকে সরকারি জমি দখলমুক্ত করে যত ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে হয় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ইনশাল্লাহ এই নবাবগঞ্জকে আমরা দখলদার মুক্ত করে ছাড়বো।
