নবাবগঞ্জে বিয়ে বাড়িতে হামলা আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার নবাবগঞ্জে কনের বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে কুপিয়ে কান ও হাত ছিন্নসহ জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাতে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ছোট গোল্লা চকপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার ঐ গ্রামের অনিল বাড়ৈর মেয়ে আণিকা বাড়ৈর বিয়ের দিন ছিল। ভোরে ছিল গায়ে হলুদ। এঘটনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কনের সাবেক স্বামীর পরিবারসহ ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অনিল বাড়ৈ (৬৫), রণজিৎ বাড়ৈ (২৫) বিশখা বাড়ৈ (৫৫), পূর্ণিমা বাড়ৈ (১৮) কে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা যায়। তারা সবাই ছোট গোল্লা চকপাড় এলাকার বাসিন্দা।

আহত অনিল বাড়ৈর বড় মেয়ে মুক্তা রায় অভিযোগ করে জানান, কয়েক বছর আগে বাহ্রা ইউনিয়নের কান্দামাত্রা গ্রামের জয়ন্ত মল্লিকের সাথে ছোট বোনের বিয়ে হয়েছিল। নেশাগ্রস্থ স্বামীর সাথে প্রায় এক বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২২ জানুয়ারি বুধবার ছোট বোনের দ্বিতীয় বিয়ের তারিখ ছিল। হিন্দু ধর্মমতে ভোরে অধিবাস (গায়ে হলুদ) হওয়ার কথা ছিল। ভোর রাত সাড়ে ৩ টার দিকে রণজিৎ বাড়ৈ প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। ওদিকে বাড়ির উঠানে আগে থেকে ওঁত পেতে ছিল সাবেক স্বামী জয়ন্ত মল্লিকসহ ১২-১৩ জনের সশস্ত্র একটি দল। ঘরের বাইরে যাওয়া মাত্র রনজিৎকে মুখ চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে থাকে হামলাকারীরা। তার চিৎকার শুনে রণজিতের স্ত্রী পূর্ণিমা বাড়ৈ এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে বাবা অনিল বাড়ৈ ও মা বিশখা বাড়ৈকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। ভোরেই আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আণিকা বাড়ৈ অভিযোগ করেন, হামলাকারী জয়ন্ত মল্লিকসহ কয়েকজনকে আমরা চিনেছি। ওরা আমার বাবা অনিল বাড়ৈর বাম কান ও ভাই রণজিৎ বাড়ৈর দুকান এবং ডান হাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছিন্ন করেছে। এছাড়া মা বিশখা ও ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমাকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রণজিৎ বাড়ৈর অবস্থা আশংঙ্কাজনক।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নবাবগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক আব্দুল জলিল অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, থানার উপ-পরিদর্শক সুজন বিশ্বাসকে সরেজমিনে পাঠানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *