কেরানীগঞ্জে ঋণের তাড়নায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঋণের বুঝা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এক সন্তানের জননী লিপি আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূ। বুধবার ভোরে গলায় ফাঁশ দিয়ে আত্মহত্যা করে। লিপি উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের গোয়াডুরী গ্রামের চাতক মিয়া মেয়ে । চার বছর আগে লিপির বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের চর চামাড়দাহ গ্রামের জদর বাবুর্চির ছেলে নিজামের সাথে।

বিয়ের পর থেকেই অভাব অনাটনে চলছিলো লিপি নিজামের সংসার। অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন সময় গ্রামীন ব্যাংক, আশা, সিদ্বীপ, ব্রাক সহ কয়েকটি এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ৮/১০ লক্ষ টাকা ঋণ নেয় লিপি । প্রবাসী স্বামী লিবিয়া থেকে যে ৩০/৪০ হাজার টাকা পাঠাত তা কিস্তির জন্য যথেষ্ট ছিলোনা। তাই সর্বক্ষণই কিস্তির চিন্তায় থাকতে হতো লিপিকে।

কিস্তি দিতে দেরী হলেই এনজিওর লোকজন গালাগালি করতো বাড়ি এসে। তাই ঋণের বুঝা মাথায় নিয়ে বুধবার ভোর ৫ টার দিকে মায়ের বাড়ি গোয়াডুরীতে গলায় ফাঁশ দিয়ে আত্মহত্যা করে লিপি। কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে  ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর, কলাতিয়া, তারানগর, বাস্তা সহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় এনজিও সংস্থা গুলোর দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মত। ঋণ নিতে  উদ্বুদ্ধ  করতেও দেখা যায় মাঠ কর্মীদের। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আদায় করে তারা। ঋণের কারণে অনেক পরিবার আজ এলাকা ছাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *