আব্দুর রহিম: চোখে ব্যান্ডেজ আর কাঁধে ধারালো অস্ত্রের কোপ নিয়ে কাতরাচ্ছেন মো. মাহবুব হোসেন । রোববার উপস্থিতি টের পেয়ে অসহিষ্ণু গলায় বললেন সাংবাদিক কেন এসেছে? কী লাভ? চিকিৎসকেরা বলে দিয়েছেন দৃষ্টি আর ফিরবে না।
এমন অমানবিক একটি ঘটনা ঘটেছে ঢাকার নবাবগঞ্জে উপজেলার চুরাইন ইউনিয়ন মরিচপট্টি এলাকায়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুদি ব্যবসায়ী মো. মাহবুবকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রোববার (৭মে) দুপুরে উপজেলার মরিচপট্টি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় মো. মাহবুব হোসেনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে উপজেলার মরিচপট্টি গ্রামের আলী হোসেন মাঝির ছেলে।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিচপট্টি গ্রামের মো. মাহবুব হোসেন একজন পাইকারী মুদি ব্যবসায়ী রবিবার দুপুরে দুবলী বাজার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ঢাকা ও বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেয়। পথিমধ্যে গজারয়িা ব্রজিরে র্পূব পাশরে পাকা রাস্তায় পৌঁছানোর মাত্র র্পূব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মরিচপট্টি গ্রামের আলেক মেম্বারের নেতৃত্বে ও তার দুই ছেলে, রনি, মাসুদ, সুবেদ মাঝির ছেলে সুমন, আনু মোড়লের ছেলে সাকিব,রাজিবসহ ৭/৮ জনের সংঘবদ্ধ দল মাহবুবের গতিরোধ করে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে চাপাতি লোহার রড ও হাতুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে।
মাহবুবের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ব্যবসার জন্য তার নিকটে থাকা ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মাহবুবুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
তার স্ত্রী জানান, বর্তমানে হামলাকরীদের ভয়ে আমার পরিবারের লোকজন আতংঙ্কের মধ্যে রয়েছি আবার যেকোন সময় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হতে পারি।
এ ঘটনায় মাহবুবুবের মামা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শত্রুতার জেরে মাহবুব নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আসামিরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে
