দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি,রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে  দাঁড়িয়েছে। সব মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আনার পর রাতেই ২১জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ৩নং ঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার জন্য ফেরীর অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী রাজবাড়ীর সৌহাদ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়া বাসটি ৬ ঘণ্টা পর টেনে তুলেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।এর আগে ডুবুরিরা একে একে ২৩জনের মরদেহ উদ্ধার করে। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ দৃশ্যমান হয়। সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে তোলা হয়।
এ ঘটনায় বাস থেকে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
নিহতরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুরের লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার(৬১), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা: আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি(২৭), কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ(৩০), কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ(৭), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার(১১), কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান(৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান(৮), ভবানীপুর ৮ নং ওয়ার্ডের ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান(২৫)। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার(৩২), রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি(১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর(১১), গাড়িচালক বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে আরমান খান(৩১) কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন(৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলা মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার(২৬), বড় চর বেনিনগরের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা(৩৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের মজমপুর গ্রামের মো: আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন(৫৬), কুষ্টিয়া সদরের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস(২৮),কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সন্তান ইস্রাফিল(৩), গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়োধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম(৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রীর নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা(৩০), ঝিনাইদহ জেলার কুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে আরমান(৭ মাস) ও কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা(১৩)।
২৩ জন মরদেহের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই টাকাটা শুধুমাত্র দাফন করার জন্য দেওয়া হবে। এছাড়াও আহত কেউ থাকলে ইনস্ট্যান্ট তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, এই সংখ্যাটা যখন পরিপূর্ণভাবে আমরা নিরূপণ করতে পারব, তখন আমরা সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার ‍উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সব মিলিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন। তবে ফেরীঘাটে আসার পর ৭/৮জন যাত্রী বাস থেকে নিচে নেমে ছিলো এবং বাসটি ডোবার পর ৭জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *