মো. কামাল হোসেন : উজানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, কুসুমহাটি, বিলাসপুর, নারিশা ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার ফলে হাজার হাজার মানুষ যেমন পানিবন্দি হচ্ছে সেই সঙ্গে ডুবে গেছে ফসলি জমি। হঠাৎ বন্যায় কৃষিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় আউশ ধান, মরিচ, চিনা বাদাম, তিল, বেগুন, শশা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, কাকরোল ও পেপেসহ সবধরনের সবজির খেত এখন পানির নিচে। শত শত বিঘা খেতের ফসল ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুকুর ডুবে ক্ষতি হয়েছে অনেক মৎসচাষীদের। দোহারের নিম্নাঞ্চলের শত শত বাড়িতে ঢুকছে বন্যার পানি। কোনো কোনো বাড়িতে বাশ দিয়ে সাকু তৈরি করে চলাচল করছে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে। বন্যায় কয়েকটি রাস্তাও তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনো রাস্তায় দেওয়া হয়েছে বাশের সাকু।
নয়বাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল হোসেন নববাংলা কে জানান,”আমাদের এলাকার অনেক মানুষই পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। তারা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার খাদ্য সংকটে রয়েছে।”
কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউসুফ জানান, “পানি বৃৃদ্ধির কারণে আমাদের বাড়ীর কিছু অংশ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। আমরা গরু-বাছুর নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি এক পরিবারের সদস্য মো. রফিক নববাংলা কে জানান,”আমরা বেশ কিছু দিন যাবৎ পানিবন্দি হয়ে রয়েছি। কাজ করতে পারছি না। কোনো কোনো বেলা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক সমস্যায় আছি। আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাই।
মাহমুদপুর ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আয়েশা আক্তার জানান,”আমাদের বাড়ীর চারপাশে পানি। গরু-ছাগল নিয়ে অনেক অসুবিধায় আছি। বাড়ী থেকে বেড় হতে পারছি না।” ব
ন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে শিশুরা। নিরাপদ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগে ভুগছে অনেক পরিবারের সদস্যরা। অতি দ্রুতই বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী পাঠাবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা বন্যাকবলিত বাসিন্দাদের।
