মো. শাহাদাত হোসেন: করোনার এই দূর্যোগময় মুহূর্তেও জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে দোহার উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সেবা কার্যক্রম। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তেও কর্মকর্তারা উপজেলার গ্রাম গুলোতে গৃহ পালিত পশু পাখিসহ বিভিন্ন খামার উদ্যোক্তা ও গৃহস্থের দোরগোড়ায় গিয়ে অব্যাহত রেখেছে গবাদিপশু, হাস, মুরগীসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগের সেবা পরিধি। উপজেলায় দুধ, ডিম, মাংস উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সার্বহ্মনিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে দোহার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে চোখে পড়ে তাদের কর্মতৎপরতা। দেখা যায় করোনা ভাইরাস সৃষ্ট দূর্যোগ চলাকালে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের গবাদি প্রাণিগুলোকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে। চিকিৎসা, টীকাদান, কৃত্রিম প্রজনন, জরুরি পরামর্শসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। সেবা নিতে আসা মানুষজনের গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবায় সার্বহ্মনিক দিক নির্দেশনাসহ নিজেদের দাপ্তরিক কাজও সামলাতে দেখা যায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের।
দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্তিতিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে খামার উদ্যোক্তা ও গৃহস্থের দোরগোড়ায় গিয়ে পশু চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ অফিসের সংশ্লিষ্টরা। অফিস টাইম ব্যাতিত অন্যান্য সময়ে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। দোহার উপজেলা জুড়ে সার্বহ্মনিক প্রাণিসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা।
১১ টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এই লোকবল এর মধ্যেও দোহার উপজেলার আনাচে-কানাচে গড়ে তুলা উদ্যোক্তাদের প্রাণী সম্পদ এবং গবাদি পশুর খামারগুলো সরেজমিন পরিদর্শন সাপেক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
পাশাপাশি প্রতিদিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রাণী চিকিৎসা সেবা গ্রহণে আসা লোকজনের সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ চিকিৎসাসেবায় হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। চলমান করোনার দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সেবার পরিধি চালিয়ে নিতে দেখা গেছে। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত প্রাণী সম্পদের কর্মকর্তারা তাদের এই সেবা পরিধি জরুরী চিকিৎসা সেবার আওতায় লিপিবদ্ধকরণের সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ মোঃ শামীম হোসেন নববাংলাকে জানান, লোকবল সংকট পাশাপাশি করোনার ঝুকি, তবুও থেমে নেই আমাদের সেবা কার্যক্রম। উপজেলার হাস-মুরগির খামার ১১৩, ছাগলের খামার ৩০ গরুর খামার ছোট বড় মিলে ১৫৬৩ টির মত খামার উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলা সবকটি খামার চিকিৎসা আমাদের কোনো ত্রুটি নেই।
পাশাপাশি প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা সেবার জন্য শতাধিকেরও বেশি মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে আসছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিয়ে আসা পশু চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের এই চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দ্রুত জরুরী চিকিৎসা সেবা হিসেবে ঘোষণা করতে সরকারের সদয় কৃপা দৃষ্টি কামনা করি।

