দোহারে বীর মুক্তিযোদ্ধার লীজকৃত জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহারে বীর মুক্তিযোদ্ধার লীজকৃত জমি দখলের চেষ্টা ও তাকে প্রাননাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

জানা যায়, গত ৮ই মে বুধবার উপজেলার নারিশা মৌজার ২২নং খতিয়ানের ১৩৮ নং এস,এ দাগের ২৫৪ ও ২৫৫ আর,এসের ৫১শতাংশ জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজের নামে লীজ থাকার পরেও স্থানীয় লুৎফর রহমান, রাহাত বেপার, আব্দুস সালাম ও তার ছেলে নাদিমুল ইসলাম ও তাদের আত্মীয় আব্দুর রউফের চার ছেলে মোঃ আমিন, হাসান আল মাহমুদ লিটন, আবু সাঈদ, আবু বকর এরা সম্মিলিত ভাবে সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙ্গে বাশের খুটি দিয়ে ঘর তুলার চেষ্টা করেছে।

এছাড়াও গত ২৯শে এপ্রিল নারিশা পশ্চিম চর বাজারে উপরোক্ত ব্যক্তিরা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজের উপরে অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ঘটনাটি প্রতিহত করে।

এবিষয়ে দোহার থানায় ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ বলেন, আমিন গং এরা দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। বিভিন্ন ভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের উপর জুলুম ও লাঞ্চনা করার চেষ্টা করে আসছে। গত ২৯ এপ্রিল নারিশা বাজারে আমাকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ সহ মেরে ফেলার চেষ্টা করে, তখন স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। ২০২২ এর সেপ্টেম্বরে সরকার আমাকে ৫১ শতাং জমি লিজ দেয়, সেখানেও তারা আমাকে যেতে দেয়নি এই সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা। তারপর গত ৮ই মে আমার সেই জমিতে থাকা সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙ্গে বাঁশ দিশে ঘর তুলে। আমি এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দোহার থানার অফিসার ইনচার্জের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম খলিল সবুজে সম্পর্কে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ মুজিব বাহিনী বিএলএফ হাবলং ভারতের আসামে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় শহীদ কমান্ডার একেএম নজরুল ইসলামের সহযোদ্ধা হিসেবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিকায় তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্র ছিলেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে অজয় রায়, ইসমত কাদির গামা সহ অনেককে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাসি চেয়ে স্ব-শরীরে শ্লোগান দিয়ে মিছিলে যোগ দেন।

এবিষয়ে ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসীম জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিসট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন খানের ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *