দোহারে প্রথম করোনা সনাক্ত, এলাকাসহ ২৫ বাড়ি লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রথম এক ব্যক্তির (৪২) শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি উপজেলা সদরের দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এতে করে ঐ এলাকার অন্তত ২৫টি বাড়ি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মস্থল সমাধান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আশেপাশের এলাকা লকডাউন করে দিয়েছে দোহার থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, সোমবার করোনা উপসর্গ থাকা দোহারের কয়েকজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। এর মধ্যে আইইডিসিআর থেকে সোমবার রাত ১২টার দিকে পাঠানো মেইলে এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভের বিষয়টি জানানো হয়।

ডা. জসিম আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে আইইডিসিআর’র টিম দোহারে এসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি এর মধ্যে যার যার সংস্পর্শে গিয়েছেন সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, দোহারবাসীকে নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলে তাৎক্ষনিকভাবে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই এলাকায় বাইরের কাউকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির এলাকার অন্তত ২৫টি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। এমনকি আক্রান্ত ওই ব্যক্তির শ্বশুর বাড়ির সাথে আজও যাতায়াত থাকায় ওই বাড়িটিও লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ। একই সাথে আক্রান্ত ব্যক্তি গত কয়েকদিন কোথায় কোথায় যাতায়াত করেছে এবং চিকিৎসা নিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি সাজ্জাদ হোসেন আরও জানান, মঙ্গলবার থেকে জনসমাগম বন্ধে ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতসহ অন্য জেলা-উপজেলা থেকে দোহারে প্রবেশ বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলায় আরও দুই ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আটজনে। আজ মঙ্গলবার সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে তারা ওই দুইব্যক্তির শরীরে সংক্রমনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তারা দুজনেই উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের বাসিন্দা। এই নিয়ে ঐ ইউনিয়নে পাঁচজন আক্রান্ত হলো।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দিন মনজু বলেন, চূড়াইন ইউনিয়নে প্রশাসনের বিশেষ নজর দারি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *