দুনিয়ায় মানুষের জীবন কত দিনের!

দুনিয়ায় মানুষ কত দিন বাঁচবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে এটার নিশ্চয়তা আছে মানুষ এক দিন মারা যাবে। তারপরও মানুষ দুনিয়ার জন্য দৌড়াচ্ছে। অথচ মৃত্যুই বলে দেয় দুনিয়া অস্থায়ী আর পরকাল স্থায়ী।
দুনিয়ামুখীরা সংসার সাজানোর পেছনে দুনিয়ার সমুদয় অর্জনকে ব্যয় করে দেয় আর আখেরাত অর্জনের উত্তম আমলকে বর্জন করে চলে। হাদিসে দুনিয়ার জীবনকে সংক্ষিপ্ত সফর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আর এ সফর শেষে বান্দার বাসস্থান হবে কবর।

হজরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) আমার শরীরের এক অংশ ধরে বললেন, পৃথিবীতে মুসাফির বা পথিকের মতো জীবনযাপন করো। আর প্রতিনিয়ত নিজেকে কবরবাসী মনে করো। (বুখারি : ৬৪৯২)
সাধারণত একজন মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে ষাট বা সত্তর বছর। এর ঊর্ধ্বে খুব কমই হায়াত পায়। এ অল্প সময়ের ইহকালীন জীবনের সুখের জন্য অনেকে অপরাধ জগতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ধর্মীয় বিধিবিধান লঙ্ঘন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ মুমিনের পরহেজগারি ও আত্মশুদ্ধি হালাল উপার্জন করার মধ্যে।
তাই মুমিনদের উচিত দুনিয়ার ষাট বা সত্তর বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলা। ফলে পরকালের অনন্তকাল জীবন সুখের ও যন্ত্রণামুক্ত হবে ইনশাল্লাহ।
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, আমার উম্মতের বয়স ষাট থেকে সত্তর বছরের মধ্যবর্তী এবং এমন লোকের সংখ্যা কম হবে যারা তা অতিক্রম করবে। (ইবনে মাজা : ৪৩৭৭)। বাইহাকি শরিফের অন্য একটি হাদিসে এসেছে, জায়েদ ইবনে হোসাইন (রহ.) বলেন, আমি হজরত ইমাম মালেককে (রহ.) বলতে শুনেছি।
একবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, দুনিয়ার পরহেজগারি কাকে বলে? উত্তরে তিনি বলেন, পার্থিব জীবনে চলতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু হালাল উপার্জন করা, পার্থিব আশা-আকাঙ্খা খাটো করা এবং পরকালের অনন্ত সফরের পাথেয় সঞ্চয়ে বেশি থেকে বেশি সময়-শ্রম ব্যয় করা।

লেখক : মাওলানা দৌলত আলী খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *