গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যের দলে বিবাদ হলে, লাভবান হবে কারা?

রাশিম মোল্লাঃ বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দলের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা সামনে এনে কেউ কেউ ফেসবুকে ঝড় তুলছেন। ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছেন পতিত ফ্যাসিস্ট দলের সঙ্গে বিএনপির কোন পার্থক্য নেই।
মন মস্তিষ্ক যদি ভালো-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা না থাকে তাহলে এমনটি মনে করাই স্বাভাবিক ।
তবে মনের জানালা খুলে চিন্তা করলে ঠিকই আপনার ভুল ভাঙবে।
বিএনপি বড় একটি রাজনৈতিক দল। ইচ্ছা থাকলেও ছোটো খাটো অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। একটি পরিবারের যেমন সবাইকে সমান ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বহু সম্ভ্রান্ত পরিবারেও দুষ্টু সদস্য রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিন্তু শুরু থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছেন । দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে কড়া সতর্কবাণী দিয়েছেন। শুধু তাই নয় যারা শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দেশের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেক জেলা- উপজেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। যখনই কোন কথিত দলীয় নেতাকর্মী রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তখনই দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটা কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার।
দেশের শতভাগ কোন কিছু পেতে হলে নাগরিককেও সুনাগরিক হতে হয়। এরপরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ বিএনপির বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন- ক্ষমতায় না আসতেই এত কিছু!
আর এসব ছড়াচ্ছে মূলত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকরা। কেউ কেউ জাতীয়তাবাদী ও গণঅভ্যুত্থানকারী দলের আশ্রয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে । ফ্যাসিস্টদের এখন টার্গেট একটি। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করা। কারণ তারা ভালো করেই জানে গত ৫ ই আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে নতুন বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিল মূলত বিএনপি -জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ছিল সাহসী ভূমিকা। গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে তাদের বহু নেতাকর্মীকে শহীদ হতে হয়েছে।
এখন ফ্যাসিস্টদের মিশন হচ্ছে এই বড় দুই দলের মধ্যে কোন ধরনের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারলেই তারা আবার নির্বিঘ্নে ফিরতে পারবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এই অবস্থায় সময়ের দাবি বিএনপি -জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে আরো বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জেলা উপজেলার নেতাকর্মীকে সামাজিক মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানি মূলক পোস্ট , বিবাদে না জড়াতে নির্দেশনা জারি করা জরুরি।
জুলাই আগস্টে দেখেছি বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলের মধ্যে কি সুসম্পর্ক ছিলো। টকশোতে জামায়াতের পক্ষ নিয়ে বহু বিএনপি নেতাকে কথা বলতে শুনেছি। একইভাবে জামায়াতের নেতারাও বিএনপির পক্ষ নিয়ে নানা কথা বলেছেন। অথচ ৫ মাসের ব্যবধানে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। এটা দেশবাসী ভালোভাবে নিচ্ছেন না। আপনারা দেশের নাগরিকদেরকে হতাশ করবেন না। বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে হলে বিএনপি -জামায়াত, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাশিম মোল্লা
সিনিয়র সাংবাদিক ও সমাজক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *