কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)প্রতিনিধি: কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইট কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেরানীগঞ্জ সিট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্থলথেকেই তাকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশ ইমান উল্লাহ মাস্তানের গ্রেফতারের বিষয়টি রাতে এড়িয়ে যান। আজ সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন পুলিশ।
ৎজানাযায়,অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া গ্যাস লাইট কারখানার মালিক হাজী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা ঈমান উল্লাহ মাস্তানের বড় ভাই আমান উল্লাহর ভায়রা ভাই। কারখানাটিতে এর আগেও একবার আগুন লেগেছিল। কারখানার মালিক আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের কাজ থেকে কোন বৈধ লাইসেন্স না নিয়েই পুনরায় কারখানাটি আবার চালু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানের নির্দেশেই কারখানার মালিক হাজী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন পুনরায় তার কারখানাটি চালু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কারখানার মালিকের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ঈমান উল্লাহ মাস্তানকে গ্যাস লাইট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার নিরীহ ছয় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং দুইজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। অপরদিকে আগানগর ইউনিয়ন বিএনপি ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির নেতারা এবং কেরানীগঞ্জ সিট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে আগানগর ইউনিয়ন বিএনপি ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানের পরিবারের লোকজন এই ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
