দোহারে রাইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কাজী জোবায়ের আহমেদঃ ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাস্তার গাইডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার বাড়ি হতে খালপাড় টানা ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তাটির মাঝামাঝি ‘মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ’সংলগ্ন রাস্তাটির গাইডওয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে মাত্র ১২ টি সিমেন্ট এর খুঁটি, দুই হাজার ইট ও বালু দিয়ে দুইলাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পের কাজের সমাপ্তি করেন নির্মাণ কাজের সভাপতি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, যে খানে প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান যে ৫০/৬০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে সেখানে কিভাবে দুইলাখ টাকা বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়। এছাড়া একই স্থানে সংযুক্ত আরো একটি গাইডওয়ালে শুধুমাত্র উপরে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়েই শেষ করেছেন গাইডওয়ালের সংস্কারের কাজ।
অপরদিকে সরজমিনে গিয়ে আরো জানা যায়, ৬নং ওয়ার্ডের শিব মন্দির সংলগ্ন পুকুরের পারে আরো একটি গাইড ওয়াল সংস্কারের কাজে পুরাতন চারটি সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে শেষ করেছেনে এক লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পের কাজ। এমন অনিয়মে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসি।
স্থানীয় বাসিন্দা মুসতাকিম আহমেদ রাজু বলেন, ৭নং ওয়ার্ডে আমাদের পুকুরের পার ঘেঁষে যে গাইডওয়ালটি নির্মঠু হয়েছে এষিয়ে আমরা কিছুই জানিনা। অথচ এই পিচ ঢালাইয়ের রাস্তাটি থেকে অপরিকল্পিত ভাবে প্রায় দুইফুট নিচে গাইডওয়ালের উপর বালু ফেলা হয়েছে। এখন সামান্য বৃষ্টি হলে এখানে গাড়ি চলাচলে বিঘœ ঘটবে। এছাড়া সাধারণ পথচারীরাও পরবে বিপাকে। চেয়ারম্যান সব সময় নিজের ইচ্ছে মত কাজ করেন যা এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।
আরো এক বাসিন্দা আহাম্মদ আলী জানান, এই চেয়ারম্যান একটা বাটপার! এত বছর ধরে এই ইউনিয়নবাসি কিছুই পায়নি। শুধু রাস্তা নির্মাণ নয় এই নুরুল ইষলামের নামে আরো অনেক অনিয়মের অভিযোগ আছে। আপনরা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৬ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, এই চেয়ারম্যান+( নুরুল ইসলাম) গাইডওয়াল নির্মাণ কাজে যে কমিটির নাম দিয়েছেন সেখানে একই বাড়ির দুইব্যক্তির নাম রয়েছে। এছাড়া কমিটির অনেকেই জানেন না এই কাজের বিষয়ে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেসাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যখন যে প্রকল্প আসে চেয়ারম্যান সাইন নিয়ে চলে যায়। আমরা জিজ্ঞেস করলেও বলেন না। ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের গাইডওয়াল নির্মাণের বিষয়ে তাকে ( চেয়ারম্যান) কে জিজ্ঞেস করলে বলেন কাজ শেষ সাইন করেন। চেয়ারম্যান সময় নিজের ইচ্ছে মত কাজ করেন। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি না। এমন অনিয়মের মধ্যে চলতে থাকলে জনগণের সাথে প্রতারণার করা হবে। খুব দ্রত এর প্রতিকার প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের কাছে প্রকল্পের কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য দেয়ার সময় নাই।
রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গাইডওয়াল নির্মাণ কাজে অনিয়মের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি টিউবওয়েল দেয়ার নামে অর্থ আদায় ও বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করেন রাইপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ।

এবিষয়ে বিস্তারিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানের ২য় পর্বে প্রকাশিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *