মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস (মানিকগঞ্জ) : খাওন দাওন দূরের কথা, বাইত্বে থাকা দায়: এমন কথা বললেন খামার এলাকার ষাটোর্দ্ধে অর্চনা। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ঝাউপাড়া জনবসতি এলাকায় গড়ে ওঠেছে নাম সর্বস্ব পোলট্রি খামার। যার নেই কোন বৈধ কাগজ পত্র। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খামারটি চলছে ৮-১০ বছর ধরে।
এতে ২টি সেটে ৩ হাজার পোলট্রি মুরগী পালন করছে। এর বিষ্ঠা বাড়ির আশে পাশে খোলা আকাশের নিচে ফেলে দেয়ায় এর র্দূগন্ধ দুষিত হচ্ছে বায়ু নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এতে পথচারি, স্কুল গামী কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা এ পঁচা র্দূগন্ধে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।এ র্দূগন্ধ বাতাসে ভেসে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে মানব দেহে প্রবেশ করার কারনে মারাত্মক স্বাস্থ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে মানবকূল।
অন্যদিকে খামারের বিষ্ঠার গন্ধে মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। খামার এলাকার লোকজন মুখ বন্ধ ছাড়া কোন ক্রমেই চলতে পারছে না এমন অভিযোগই গ্রামবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনবসতি এলাকায় ও রাস্তার পাশেই পোলট্রি খামার গড়ে ওঠেছে। যার নেই কোন মালিকের নাম, কোম্পানীর নাম, সাইন বোর্ড। এতে প্রায় ২টি সেট তৈরি করে ৩ হাজার পোলট্রি মুরগী এ খামারে লালন পালন করছে। তাছাড়া এ খামারের আশে পাশে রয়েছে ৪০-৫০টি বসত বাড়ি। খামারে বিষ্ঠা খোলা আকাশের নিচে ফেলাতে বাতাসে দূর্গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। ফলে দূর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামবাসি। এ যেন দেখার ও বলার কেউ নেই। খামারের মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতে কেউ টু শব্দ পর্যন্ত করতে সাহস পায় না।
খামার এলাকার বসবাসরত দিনমজুর মো. জমিরউদ্দিন ও জসিমউদ্দিন বলেন, বাতাস আসলে গন্ধে দিনে রাতে চলতে পারি না। রাতে যখনই সজাগ হই তখনই গন্ধ পাই। ভাত খাওয়ার সময় গন্ধে বমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। রোজার মাস চলছে রোজা থাকি এ গন্ধে খুব খারাপ লাগে। আমরা গরীব মানুষ তাই নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে।
কলেজ পড়ুয়া রাসেল খাঁন বলেন, পোলট্রি খামারের বিষ্ঠার দূর্গন্ধে রাত জেগে পড়তে পারি না। এর র্দূগন্ধে পেট ভার হয়ে থাকে। গ্রামবাসী বহুবার খামার সরিয়ে নেয়ার কথা বললেও মালিক কোন কর্নপাত করেন না। তাছাড়া আমরা ভয়ে কিছুই বলতে পারি না।
খামারি এলাকার রিফুল, প্রদ্বীপ, সাগর, ফুল মালা, রনিসহ একাধিক গ্রামবাসী বলেন, পোলট্রি খামারের গন্ধে, আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যে ঝুঁকিতে আছি। খামারের মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতে আমরা এর প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে এ পোলট্রি খামার অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জোড় দাবি জানাচ্ছি।
খামারের মালিক মো. আওলাদ হোসেন -কাগজ পত্র সব ঠিক ঠাক আছে দাবি করে বলেন-আমি ১৭-১৮ বছর যাবৎ পোলট্রি খামার করি। গন্ধতো ইতটু আতটু হই। ব্যবসা করতে গেলে তো কিছু অসুবিধা মানুষের হয়। তাছাড়া ময়লা ফেলার জন্য গর্ত করেছি। ইট ও এনেছি করোনার জন্য কাজ করতে পারছি না। কিভাবে খামার করলে মানুষের অসুবিধা না হয় এই পরামর্শ চায় সাংবাদিকদের কাছে খামার মালিক।
তালেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী বলেন, আমি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. সাঈদ মোল্লা ২ মাস আগে খামারে মালিক আওলাদ কে বলেছি নিয়ম মেনে খামার চালানোর জন্য। কিন্তু সে আমাদের কথা আমলে নিচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্যে ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহ্ বলেন, পোলট্রি খামারের বিষ্ঠার গন্ধে শ্বাস-প্রশ্বাসে মানব দেহে প্রবেশ করে পেটের পীড়া, শ্বাস কষ্ঠসহ জটিল-কঠিন রোগ হতে পারে। এতে শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পরতে পারে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন- মানুষের ক্ষতি হবে এমন জায়গাতে পোলট্রি খামার করা যাবে না। লোকালয় থেকে দূরে খামার করতে হবে যাতে এর র্দূগন্ধে মানুষের ক্ষতি না করে। খামারের বিষ্ঠার গন্ধে শ্বাসের রোগীদের বেশি ক্ষতি করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, বাড়ি থেকে খামারের দুরুত্ব কতটুকু, পরিবেশের ছাড় পত্র আছে কিনা এগুলি দেখতে হবে। নিয়মের মধ্যে ও বৈধ কাগজপত্র না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
