ক্রিকেটারদের সাদামাটা বর্ষবরণ, ঘরে বসে সৃষ্টিকর্তার দয়া কামনা

করোনা কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবন। স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। নগর জনপদের কোলাহল গেছে থেমে, কোথায় হারিয়ে গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। আজ পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের উৎসব। সব কিছু ঠিক থাকলে গোটা বাংলাদেশ ডুবে থাকত বাংলা ১৪২৭’কে বরণ করে নিতে।

এই একটি দিন, একটি উৎসব, একটি পর্ব- যেখানে নেই ধর্মের বিভাজন, জাত পাতের বিচার নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব এই পহেলা বৈশাখ। কিন্তু হায়! এবার তার কিছুই নেই।

দেশবরেণ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব জালাল আহমেদ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, ‘এবার পহেলা বৈশাখে এসো হে বৈশাখের সমবেত সঙ্গীত নেই। নেই হলুদ রঙা শাড়ির চুল বাঁধা সাজ। পান্তা ইলিশ পিঠা পায়েস গ্রামীণ মেলা কিছু নেই। নেই লালে মোড়া হালহাখাতার রকমারি আচার।

সমাজের অন্য সব শ্রেণি পেশার মত ক্রীড়াঙ্গনের ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, প্রশিক্ষক- সবাই ঘরে আটকা। উৎসব আনন্দ নেই তাদের মাঝেও। ক্রিকেটাররাও ঘটা করে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে সৃষ্টিকর্তার আনুকুল্য কামনা করছেন।

উৎসবে মেতে ওঠার প্রশ্নই আসে না। ঘরের বাইরে ঘুরতে যাওয়ারও অবকাশ নেই। তাই সবাই ঘরে বসে পরিবার পরিজনের সাথে ঘরোয়া পরিবেশে প্রানের উৎসব, জাতীয় উৎসবকে যতটা সম্ভব সাদামাটাভাবে উদযাপন করছেন।

দেশের ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল আর মুমিনুল হকের সঙ্গে কথা বলে সেটাই জানা গেল। তামিম বাসায় স্ত্রী সন্তানের সাথেই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন কাটিয়েছেন। বনানীতে বাবা মা আর দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়েই বৈশাখের প্রথম দিন একান্তে কেটেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। আর মুমিনুল যথারীতি বসুন্ধরার ফ্ল্যাটেই বর্ষবরণ করলেন।

করোনা চারপাশ ঘিরে না রাখলে এবারের বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি অন্যভাবে কাটত রিয়াদের। বলার অপেক্ষা রাখে না, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এই তো সপ্তাহখানেক আগে (গত ৬ এপ্রিল) দ্বিতীয় সন্তানের জনক হয়েছেন। তাই বনানীর বাড়িতে এখনও নতুন অতিথি আগমনের রেশ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জানান, ‘পহেলা বৈশাখ শুধু বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনই না। আমাদের বাঙালিদের জীবন-সংস্কৃতিরও এক বর্ণিল দিন। সামাজিক ভাবেই দিনটি আনন্দ-উৎসবে কাটে। কিন্তু করোনার কারণে এবার তো উৎসব-আনন্দ করার কোনো অবস্থা নেই। বাসায় আব্বা-আম্মা, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে একটু ভাল খেয়েই পালনের চেষ্টা করেছি।’

‘এর বাইরে আমাদের দেশ ও বিশ্ব যাতে করোনার রাহুমুক্ত হয়, মহান আল্লাহর কাছে সেই দয়াই কামনা করছি। মহান আল্লাহর রহমত এখন খুব জরুরী। আমরা যত সতর্ক-সাবধানতাই অবলম্বন করি আর যত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নই থাকি না কেন- সবচেয়ে বেশি দরকার মহান সৃষ্টিকর্তার আনুকুল্য। তাঁর দয়া ও কৃপা ছাড়া এ প্রাণনাশি করোনার হাত থেকে নিস্তার নেই।’

মাঝে বেশ টেনশনে কেটেছে কদিন। করোনার কারণে চারদিক বন্ধ। তার স্ত্রীর প্রসবের দিনক্ষণ এগিয়ে আসছিল। রাস্তাঘাটে লোকজন নেই। যাতায়াতে আছে বাঁধা। তার চেয়েও বড় চিন্তা ছিল সন্তান সম্ভবা স্ত্রী আর হবু সন্তানকে নিয়ে।

রিয়াদ বলেন, ‘এখন হাসপাতালও নিরাপদ নয়। করোনা শঙ্কা সেখানেই বেশি। কী হয়, কী হবে? ভীষণ রকমের চিন্তায় ছিলাম। ছোয়াচে করোনায় না আবার কোন সমস্যা হয়? এসব ভেবেই অস্থির সময় কেটেছে কদিন। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি কোনরকম সমস্যা হয়নি। স্কয়ার হাসপাতালে ঠিকমতই হয়েছে সব। সন্তান ও স্ত্রী এখন ভাল আছেন, সুস্থ আছেন।’

ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও করোনার এই ভয়বহতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সৃষ্টিকর্তার দয়া কামনা করাতেই উত্তম বলে মনে করেন। তাই তো নববর্ষের দুপুরে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোনে তার ছোট্ট কথা, ‘সবার মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করি। দোয়া চাই, দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের এ বিপদ থেকে রক্ষা করেন।’

টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের কথা, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় উৎসব। আমরা ঘটা করে পালন করি প্রতিবার। কিন্তু এবার তো আর সেই অবস্থা নেই। এখন সারা বিশ্ব, গোটা দেশ করোনায় তটস্ত। এখন ঘটা করে ও উৎসবের আমেজে পহেলা বৈশাখ পালনের প্রশ্নই আসে না। তার চেয়ে করোনা মুক্তি কামনাই সময়োচিত কাজ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *