হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ রাখলে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের সেবা করেন। এটাই সময়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবো না।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস মিলনায়তনে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা অনেক কাজ করছেন। আপনারা এ যুদ্ধের সৈনিক। কিন্তু লক্ষ্য করছি, কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল কাজ কম করছে। তবে, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বার অনেকাংশে বন্ধ আছে। আমরা সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারছি, নিজেরাও দেখতে পাচ্ছি। এ সময় আপনাদের পিছপা হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত নয়।বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। বড় বড় কয়েকটি হাসপাতাল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। যাদের এ ধরনের হাঁচি-কাশি আছে, সন্দেহ হলে এসব হাসপাতালে যাবেন। সব ধরনের চিকিৎসা পাবেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো প্রস্তুত আছে। ভেন্টিলেশন লাগানো আছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো লাগানো আছে। জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ করা হয়েছে।

মিডিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ভালো কাজ করছেন। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি। দেশের আনাচে কানাচে কীভাবে চিকিৎসা হচ্ছে। কীভাবে মানুষ ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক রকমের ভুয়া নিউজ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মনে করি, যারা এই কাজটি করছেন তারা ঠিক করছেন না। এদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আমাদের কাজ ব্যাহত করছেন। এই বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারি না। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। আপনাদের কাছে আহ্বান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন, এই নির্দেশনা গুলো মেনে চলবেন এবং পজিটিভ নিউজ করবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মোট ৬১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা ৫১৩ নমুনার মধ্যে আইইডিসিআর ১২৬টি পরীক্ষা করেছে। এছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৮৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এদের মধ্যে ৫ জনের নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পাঁচজনের মধ্যে আইইডিসিআরের দুইজন বাকি তিনজন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে শনাক্ত হয়েছে। যেহেতু নতুন ল্যাবে ৩ জন শনাক্ত হয়েছে সেহেতু আমরা কিছু যাচাই-বাছাই করবো। আমাদের কাছে চিকিৎসাধীন আছেন ২৯ জন। এদের ২২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাকি ৭জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ৮২ জন।

অনলাইন ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *