নাজমুল হোসেন : ঢাকার নবাবগঞ্জের বাহ্রা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ৩শ’ টাকায় ৩০কেজির স্থলে ডিলার কর্তৃক ২৪-২৫কেজি চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সঠিক ওজনের চাল পেল দরিদ্ররা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ঐ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগের পর এ ব্যবস্থা নেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাক জাহান।
সরেজমিনে, ডিলারের ঘর সংলগ্ন পাকা রাস্তায় উপস্থিত ইউনিয়নের শুভরিয়া গ্রামের মায়ারানী, কনকমালা, শেফালী সরকার, শান্তি সরকার, গীতা সরকারকে চালের বস্তা নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, ডিলার সাইফুল ইসলাম রকেট ৩শ’ টাকায় ৩০কেজি চাল দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু চাল মেপে ২৪ কেজি থেকে ২৫ কেজি ৮শ’ গ্রামের বেশি পাওয়া যায়নি। এর আগেও এভাবে চাল নিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষ অভিযোগ করার সাহস পাইনি।
বলমন্তচর গ্রামের নিলুফা জানান, ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা। কিন্তু সব সময়ে প্লাষ্টিকের বালতি দিয়ে মেপে চাল দেন ডিলার। এতে মাপে কম হয়। তবুও ভয়ে কিছু বলি না। যদি আমাকে আর চাল না দেয়।
ডিলারের দোকান ঘরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মুল দরজায় তালা ঝুলছে। কিন্তু সামনে ৪০-৫০ নারী-পুরুষ চাল নিতে উৎকণ্ঠায় বসে আছেন। তারা জানান, ৩ মিনিট আগে ডিলার তালা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। আমাদের কার্ড গুলোও ভিতরে রেখে গেছেন। তাহলে আমরা কি চাল পাবো না?
অভিযোগ পেয়ে ইউএনও নির্দেশে ১৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসরাক জাহান। তিনি উপস্থিত নারী-পুরুষদের শান্ত করে ডিলারকে মুঠোফোনে ডেকে আনেন। পরে নিজে উপস্থিত থেকে কার্ডধারীদের ৩০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দেন। আগে যাদের কম চাল দেয়া হয়েছে তাদেরও ৩০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেয়া হয়।
ডিলার সাইফুল ইসলাম রকেট ঘটনাস্থলে এসে বলেন, গোডাউন থেকে চাল আনার সময় কমে যায়। আবার অনেক বস্তায় ওজন কম থাকে। তার ওপর স্থানীয় নেতা-জনপ্রতিনিধিরা কার্ডধারী নন এমন লোককে চাল দেয়ার অর্ডার করেন। আজও এক জনপ্রতিনিধি তিনজনকে পাঠিয়ে ছিলেন। না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাহ্রা ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা আব্দুল মান্নানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রামের বাড়ি ধামরাইতে আছেন বলে জানান। তিনি জানান করোনা পরিস্থিতির জন্য বাস বন্ধ থাকায় আসতে পারেননি।
চালের বস্তায় ওজন কম থাকার বিষয়ে ডিলারের অভিযোগ অস্বীকার করে কলাকোপা খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. সালাউদ্দিন বলেন, চালের বস্তার ওজন কম থাকে না। বস্তা গুলো ওজন করে ডিলারদের দেয়া হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাক জাহান বলেন, ওজনে কম দেয়ার প্রমান পাওয়া গেছে। ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দীন মনজু এবিষয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ১০টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে যেনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পাঠানো হয়েছিল। তিনি প্রত্যেককে সঠিক ওজনের চাল বুঝিয়ে দিয়েছেন।
