কেরানীগঞ্জে ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)প্রতিনিধি:  কেরানীগঞ্জে বিয়ের ১১ মাসের মাথায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে এক প্রসূতি মায়ের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালে। নিহত প্রসূতি মায়ের নাম খাদিজা আক্তার তানিয়া। শুক্রবার সেখানে সিজার করে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করানো হয়। এরপর রোগীকে দুই ঘন্টা পর অপারেশন টেবিল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ঢামেকে তার আরেক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন খাদিজা।

খাদিজার দেবর হাসান বলেন, ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারনে আমার ভাবীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। এটা ছিল তাদের প্রথম সন্তান। ভাবীর অকাল মৃত্যুতে তার ভাই শয্যাশায়ী।

খাদিজার স্বজনরা জানান, রোগীর ক্ষতি যা হওয়ার ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালে সিজারের সময় সেটা হয়েছে। রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন সিজার করার সময় রোগীর রক্তনালি বেশি পরিমানে কেটে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থায় রোগীকে সেলাই না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে ঢামেক কর্তৃপক্ষ রোগীকে বাঁচাতে আরেক দফা অস্ত্রোপচার করলেও খাদিজাকে বাঁচানো যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা শনিবার রাতে ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করে।

অভিযোগ উঠেছে এই হাসপাতালে খাদিজার মতো অনেককেই ভুল চিকিৎসার কারনে প্রাণ হারাতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাকিয়া আক্তার বলেন, গত বছর এদের ভুল চিকিৎসার কারনে আমার বান্ধীর মেয়ে মারা গেছে। আড়াকুলের এলাকার গৃহিনী আখি খান বলেন, ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ভালো না। ভুলভাল রিপোর্ট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন বলেন, রোগী নিয়ে এরা ব্যবসা করে। স্টাফদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ।

এখানে অনভিজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বার বেশি। যন্ত্রপাতি পুরনো, ভালো রিডিং (সঠিক রেজাল্ট) আসে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালে রায়হান মিয়া নামে এক ব্যক্তি ইকুরিয়া এলাকায় এই ক্লিনিকটি গড়ে তোলেন। তিনি এক সময় সাজেদা হাসপাতালে চাকরি করলেও হঠাৎ সেই চাকরি ছেড়ে নিজেই ক্লিনিক খুলে বসেন। বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের তোষামোদী করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে ‘তেল’ দিয়ে উপজেলা বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল কমিটির সাধারণত সম্পাদক হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক এক কর্মচারী বলেন, এই হাসপাতালের বেশিরভাগই অদক্ষ জনবল। মালিক রায়হান কম বেতন দিয়ে এদের রেখেছেন।

তিনি আরও জানান, এই হাসপাতালে ডা: জসিম উদ্দিন নামে একজন চিকিৎসক বসে। আসলে সে চিকিৎসক নন। এদিকে গৃহবধূ খাদিজার মৃত্যুর ঘটনাটি আলোচিত হলে রোববার ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের একটি টিম ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আক্তার হোসেন জানান, খাদিজার পরিবার অভিযোগ নিয়ে এসেও ফিরে গেছে। শুনেছি বিষয়টি তারা আপোস মীমাংসা করে ফেলেছে। খাদিজার সিজারের অস্ত্রোপচার করেছেন ডা: আনিসা ফাহমিদা। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে গিয়েও তার দেখা মেলেনি।

হাসপাতালের মালিক রায়হান মিয়া বলেন, ওই রোগী (রোগী) কার্ডিয়াক এরেস্টে মারা গেছেন। তার পরিবার তো বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তাদের কোন অভিযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *