গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার বাংলার মাটিতে হবেই -আমান উল্লাহ আমান

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:  বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান বলেছেন,গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার বাংলার মাটিতে হবেই ইনশা আল্লাহ। শুধু তার বিচার নয়। তার দোসরদেরও যারা গনহত্যাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত তাদেরও বিচার করতে হবে। ইতিমধ্যেই মানবতা অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়ে গেছে। খুনি হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতি করার আর কোন অধিকার নেই। তিনি আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জের নেকরোজবাগে রেডরোজ পার্টি সেন্টারে কালিন্দী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। আমান উল্লাহ আমান আরো বলেন, খুনি হাসিনার পতনের একদিন আগেও বলেছিলেন শেখ মুজিবের মেয়ে পালায় না।

কিন্তু পরের দিনই তিনি তার গুষ্টিসহ এদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করে পরের দিনই কেরানীগঞ্জে এসেছিলাম। বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে ছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন আর মাঠে ময়দানে খুঁজে পাওয়া যায় না। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। অবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গন হত্যাকারী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। তার বিচার এদেশের জনগণকে করতেই হবে। খুনি হাসিনার নির্দেশেই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সুমন, বিএনপির পৌরসভা মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অসংখ্য বিএনপি নেতা কর্মী কে গুম করা হয়েছে,খুন করা হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় মেজর শাকিলসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হাসিনার নির্দেশেই নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। মেজর শাকিল এর ছেলে বলেছে, আমার বাবার হত্যাকারী হচ্ছে শেখ হাসিনা নিজেই। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭বছর বাড়িতে ঠিকমতো ঘুমাইতে পারেননি। হযরতপুরে একটি মসজিদের ভিতর ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে হামলা চালিয়ে আমাদেরকে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল এটা কিন্তু আমরা এখনো ভুলে যাইনি। শিকারি টোলা মডেল উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নির্দেশে তৎকালীন মডেল থানার এক ওসির নেতৃত্বে যেভাবে হামলা করা হয়েছিল সেই ঘটনাও কিন্তু আমরা ভুলিনি। আমরা জানতে পেরেছি ওই হামলার নেতৃত্বদানকারী ওসির বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর মামলা হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। ওই নির্বাচনে আমার পরিবর্তে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি অংশগ্রহণ করে। কিন্তু তাকেও আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে দেয়নি। তার গাড়ি বহরে হামলা করে ১৭ টি গাড়ি ভাঙচুর করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে করে ছিল।

সামনে নির্বাচন। তারেক রহমান বিভিন্ন সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে বলছেন আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এখন থেকেই আপনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছে তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিবেন এবং ধানের শীষে ভোট চাবেন। মানুষের বিপদে আপাদে পাশে দাঁড়াবেন। কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা বিএনপি’র মধ্যে ঢুকে চাঁদাবাজি করে বিএনপি’র বদনাম করে বেড়াচ্ছে। আপনাদেরকে এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোন আওয়ামী লীগ প্রেতাত্তারা বিএনপিতে ঢুকতে না পারে। কেউ বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তাকে দ্রুত পুলিশে সোপর্দ করবেন। আগে আপনাদের এলাকায় যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আপনাদের সাথে নিয়েই সেভাবেই উন্নয়ন করা হবে।

কালিন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব হোসেন মেহবুবের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মনির হোসেন মিনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনির, বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান আংকু, আরিফুর রহমান মিন্টু, সেলিম রেজা, শামসুল হক লিটন, আতাউর রহমান হীরা, মডেল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ওয়ালী উল্লাহ সেলিম, আব্দুল জলিল প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *